প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন
বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা: নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও বিভিন্ন ভাতা-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ভিন্ন হবে। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পেলেও উচ্চতর গ্রেডে এ হার ধাপে ধাপে কমে দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নামবে।
সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও আর্থিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নতুন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবছর মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। গ্রেড-৫-এ এ হার হবে ৪ শতাংশ। গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
অর্থাৎ উচ্চতর গ্রেডে মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হলেও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের তুলনায় কম থাকবে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীতেও পদভেদে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হবে।
নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাড়া ভাতার শতাংশ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ হতে পারে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমান ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে নতুন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় শতাংশ কমলেও অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার প্রকৃত টাকার অঙ্ক বাড়তে পারে।
নতুন কাঠামোয় চিকিৎসা ভাতায়ও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি সরকারি চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সিরা ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন কাঠামোয় পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে আট বছর করার কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে একই গ্রেডে আরও ছয় বছর চাকরির শর্ত রাখা হচ্ছে। পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ‘ব্লকড পদ’ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বিবেচনায় কয়েকটি ছোট ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকবে; তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে।
ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনাও নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে। শুরুতে ৫ শতাংশ হারে দেওয়া এই প্রণোদনা পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও বিভিন্ন ভাতার কাঠামোও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নন-কমব্যাট্যান্ট (এনরোল্ড) বা এনসি (ই) ও সমতুল্য পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার টাকা এবং মেজর জেনারেল ও সমপদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদকে গ্রেড-২ এবং কর্নেল ও সমপদকে গ্রেড-৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর ফ্লাইং পে এবং বিভিন্ন বিশেষ বেতন ও ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হলেও মূল বেতনের আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারের হিসাবে, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
সূত্র: সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত ও ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন।