প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন
বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর একটি ঐতিহাসিক ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা হিসেবে আলোচিত নিবন্ধটি নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের নতুন অধ্যায় হিসেবে স্থান পাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় নিবন্ধটি পাঠ্যভুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁর ভাষ্য, যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ২২ নম্বর গদ্যে লেখক পরিচিতির অংশে জিয়াউর রহমানকে সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই অংশে তাঁকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদসহ বিভিন্ন নেতার অবদান রয়েছে।
কারিকুলাম সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখসমরের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ রয়েছে।
প্রস্তাবিত নিবন্ধে জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর গতিবিধি এবং সশস্ত্র প্রতিরোধে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বর্ণনা দিয়েছেন।
নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি ‘উই রিভোল্ট’ বলে প্রতিরোধের নির্দেশ দেন। এরপর ষোলশহরে গিয়ে ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও সৈন্যদের একত্র করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা জানান।
নিবন্ধের বর্ণনা অনুযায়ী, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। পরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা এবং ইপিআরের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিবন্ধে ২৭ মার্চ কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেছেন জিয়াউর রহমান।
তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যায় রেডিও স্টেশনে গিয়ে একটি খাতার পৃষ্ঠায় স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার বক্তব্য লেখেন তিনি। পরে বেতার তরঙ্গে সেই ঘোষণা প্রচারিত হয়।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্টরা জানান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এই স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের একটি ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধটির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। তাঁর মতে, নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে আরও জানতে পারবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এনসিসিসির সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।