প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন
বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা: মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর মাধ্যমে সরকারি ভাতার টাকা জালিয়াতি করে ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। লোপাট করা এই অর্থ দিয়ে নগদের প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে তদন্তকারী সংস্থাটি। এ ঘটনার মূল নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন ভাতার ৩২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন কারণে যেসব ভাতাভোগী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের টাকা উত্তোলন করেননি, সেই অব্যবহৃত ই-মানি সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মৃত ব্যক্তিদের বা পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা ই-মানি ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেই অর্থ ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসওর ওয়ালেটে স্থানান্তর করে পরবর্তীতে ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবে ঢোকানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব থেকে মোট ১ হাজার ৭০৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বের করে আত্মসাৎ করা হয়।
অননুমোদিত এই ৩৪টি ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে রয়েছে—অ্যাস্থেটিক ডেভেলপমেন্ট, এআরএ ডেভেলপার, ডিজিটাল সেন্টার ডিস্ট্রিউশন, কল্লোল ডিস্ট্রিবিউশন, এলবি নিটওয়্যার, পাইনউড ডিস্ট্রিবিউশন, রহমান ডিস্ট্রিবিউশন ও ইউডিসি ডিস্ট্রিবিউশন।
লিপাট করা এসব অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্তরে স্তরে ঘুরিয়ে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (বর্তমান ‘নগদ লিমিটেড’) ১৬ কোটি ৮৪ লাখ শেয়ার কেনা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকা। দুদক জানিয়েছে, তানভীর আহমেদ মিশুকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে অবৈধ শেয়ার হস্তান্তর, শূন্য কুপন বন্ডের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে বিদেশি ঋণের দায় পরিশোধ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এসব শেয়ার বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দেখিয়ে বিদেশে পাচারের চক্রান্ত করা হচ্ছিল।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই লোপাটের অর্থে কেনা এসব শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি রোধ করতে আদালতে আবেদন করে দুদক। গত ১০ সেপ্টেম্বর মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির তানভীর মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ ১৬ কোটি ৮৪ লাখ শেয়ার অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন। একই সঙ্গে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর এবং নগদের প্রশাসককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।