বেক্সিমকোর ৯৯৩ কোটি টাকার ঋণ, নিলামে কোনো ক্রেতা মেলেনি
৯৯৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি ও সম্পত্তি নিলামে তুলেছিল রূপালী ব্যাংক, তবে কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি।
রাজধানী: ইট-পাথরের কংক্রিটের নগরী ঢাকা। ভবনের পর ভবন, ব্যস্ত সড়ক ও যানজটের চাপে দিন দিন কমছে সবুজের পরিসর। সংকুচিত হচ্ছে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়ও। এমন বাস্তবতায় ঢাকার একটি ছাদকে পাখি ও জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আবাস হিসেবে গড়ে তুলেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘আকাশ নীড়’।
‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে এ ছাদবাগান। এখানে রয়েছে ফুল ও ফলের গাছ, জলাধার, বার্ডস বাথ, পাখির খাবার এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা। পাশাপাশি মানুষের জন্যও রাখা হয়েছে সবুজে ঘেরা বিশ্রামের জায়গা।
বুধবার ‘আকাশ নীড়’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, ‘আকাশ নীড়ে’ রয়েছে ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ। এর মধ্যে পাখির খাদ্যের উৎস ও পরাগায়নের জন্য ৩০ প্রজাতির ২২৯টি ফুলের গাছ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১৪ প্রজাতির ৪১টি ফলের গাছ। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে রাখা হয়েছে ১১ প্রজাতির ৪৪টি অর্নামেন্টাল গাছ।
পাখিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পদ্ম ও শাপলাসমৃদ্ধ জলাধার ও বার্ডস বাথ। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রয়েছে বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড়, পাখির ঘর এবং বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছ।
স্থানীয় খরগোশ, বানর ও কাঠবিড়ালির জন্যও নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফরিদা খানম বলেন, কংক্রিটের ব্যস্ত নগরীতে সবুজ, নির্মল বাতাস ও পাখির কিচিরমিচির শোনার পরিবেশ দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। তবে উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে শহরের বুকেও সবুজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আকাশ নীড়’ শুধু একটি ছাদবাগান নয়; এটি নগরজীবনে সবুজ, জীববৈচিত্র্য ও পাখির নিরাপদ আবাস ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস। এমন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে পাখিরা এসে নিরাপদে আশ্রয় নিতে, খাবার পেতে এবং নির্বিঘ্নে বিচরণ করতে পারে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ঢাকার প্রতিটি ভবনের ছাদ যদি একটু একটু করে সবুজ হয়ে ওঠে এবং মানুষ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একটি গাছ রোপণ করেন, তাহলে শহরটি আরও বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নগরায়ণের ফলে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সবুজ এলাকা ও জীববৈচিত্র্যের পরিসর। এ অবস্থায় ছাদবাগান শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, নগরের পরিবেশ রক্ষারও একটি কার্যকর উদ্যোগ।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি ভবনের ছাদে সবুজায়ন করে এবং পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে সম্মিলিতভাবে নগরের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
‘আকাশ নীড়’ মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ককে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশু-কিশোরদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পাখি ও প্রাণীর পাশাপাশি মানুষের জন্যও ‘আকাশ নীড়’কে রাখা হয়েছে স্বস্তির জায়গা হিসেবে। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে নান্দনিক বিশ্রামস্থল, ছাতা ও কাঠের চেয়ার।
ফুলের সুবাস, সবুজের সমারোহ আর পাখির কলতানে ছাদটি হয়ে উঠেছে নগরজীবনের মধ্যে ছোট্ট এক প্রশান্তির পরিসর।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ‘আকাশ নীড়’কে শুধু একটি ছাদবাগান হিসেবে নয়, একটি ধারণা হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। ঢাকার অসংখ্য ভবনের ছাদে এ ধরনের সবুজায়ন ছড়িয়ে পড়লে কংক্রিটের নগরীতেও তৈরি হতে পারে সবুজের নতুন বলয়।