ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা প্রথম মামলার রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় কার্যক্রম শুরু হয়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে দুটি অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়টির শেষ অংশ পড়া শুরু করেছেন।
রায়ের বিবরণে ট্রাইব্যুনাল কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্টের অংশবিশেষ পড়ে শোনানো হয়েছে।
বিচার চলাকালে উপস্থাপন করা বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের বিবরণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন ভিডিওতে পাওয়া শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য–প্রমাণ, ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ অন্তর্ভুক্ত। বেলা সোয়া একটার দিকে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন জনের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথোপকথনগুলো, যার মধ্যে সে সময়ের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে ফোনালাপও রয়েছে, তা শোনানো হয়।
পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল:
উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান।
প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা।
রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা।
আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।
ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে তিন আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তিতর্কের বিবরণ পড়ে শোনাচ্ছেন। রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করছে।