হেপাটাইটিস বি ঠেকাতে টিকা কেন জরুরি, কারা নেবেন
হেপাটাইটিস বি থেকে সুরক্ষায় টিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ, নবজাতক ও প্রাপ্তবয়স্কদের কারা টিকা নেবেন, কত ডোজ প্রয়োজন এবং ডোজ বাদ পড়লে কী করবেন—জেনে নিন।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির মধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যানে বড় ধরনের অসঙ্গতি ও গরমিল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ চারটি সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি থাকা প্রকৃত ডেঙ্গু রোগীর তুলনায় ৬১ শতাংশ রোগী কম দেখানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বুলেটিনে।
গত সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরজমিনে পরিদর্শন করে গণনায় এই চিত্র উঠে আসে।
চার হাসপাতালের বাস্তব চিত্র ও তথ্যের বড় ব্যবধান
দৈনিক শব্দমিছিল গণনায় পাওয়া চার হাসপাতালের দেওয়া তথ্য এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া হিসাবের তুলনামূলক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| হাসপাতালের নাম | প্রকৃত ভর্তি রোগী (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ/গণনা) | স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কম দেখানো হিসাব (কন্ট্রোল রুম) | পার্থক্যের পরিমাণ (গরমিল) |

শুধু একদিনের হিসাব নয়, বছরের শুরু (১ জানুয়ারি) থেকে এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া মোট রোগীর পরিসংখ্যানেও প্রতিটি হাসপাতালে শত শত থেকে হাজার পর্যন্ত রোগী কম দেখানোর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ, মুগদা হাসপাতালে ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪,১৯৯ জন চিকিৎসা নিলেও কন্ট্রোল রুম মাত্র ১,৭৭৩ জনের তথ্য প্রকাশ করেছে (গরমিল ২,৪২৬ জন)।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত তথ্যের গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমত আরা জানান,
“হাসপাতাল থেকে যে পরিসংখ্যান পাঠানো হয়, আমরা সেটিই প্রকাশ করি। ভুল পরিসংখ্যান প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে, প্রকৃত তথ্যের গোপনীয়তা ও অসঙ্গতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক উল্লেখ করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন,
“ডেঙ্গু রোগীর তথ্যে গরমিল হওয়া ও কম দেখানোর প্রবণতা খুবই দুঃখজনক এবং একই সঙ্গে বিপজ্জনক। এতে সমস্যা ঠিকভাবে মোকাবিলা করা যাবে না এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।”
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১,৬৫৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩,৬২৭ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১৯০ জনে।