জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বিকল্প নেতৃত্ব তৈরিতে তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভবিষ্যতে আসনটি শূন্য হলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আবদুর রহমানকে সামনে রাখা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসনটি শূন্য ঘোষণা না করা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে না দলটি।
দলীয় সূত্র জানায়, পেশায় শিক্ষক মাওলানা আবদুর রহমান জামায়াতের শ্যামনগর উপজেলা শাখার আমির। সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য হলে তাঁকে প্রার্থী করার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি না হলেও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের জন্য তাঁকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে সূত্রটির দাবি।
এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর আবদুর রহমান এলাকায় গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়িয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা আবদুর রহমানও বলেছেন, সংগঠন ও এলাকার মানুষের জন্য যিনি মঙ্গলজনক, দল তাঁকেই প্রার্থী করবে। যাঁকেই প্রার্থী করা হোক, সাতক্ষীরায় জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
দলটির দায়িত্বশীল আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের জেলা আমির শহীদুল ইসলাম (মুকুল) এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ব্যক্তিগত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জামায়াত সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে। পরে দলটি তাঁকে গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। গাজী নজরুল নিজেই ভিডিওতে থাকা নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
এরপর তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় জামায়াত। তবে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তারের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ২১ সেপ্টেম্বর আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গাজী নজরুল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রিমান্ড শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে গাজী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান পান ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, পুরো সাতক্ষীরা জেলায় দলটির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী। শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ আসনটিতে দলটির অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো বলেও তাঁরা মনে করেন।
সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তির কারণে দলের নির্বাচনী ফল খারাপ হবে বলে তাঁরা মনে করেন না। যাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, তাঁকে বিজয়ী করার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা তাঁদের রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।