লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী
জ্বালানি সংকটের মধ্যে রংপুরের লংমার্চে সাড়ে চারশো গাড়ি অংশ নেয় এবং এর কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঢাকা: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনার সঙ্গে পাটওয়ারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ শীর্ষক সমাবেশ ও মিছিল থেকে তিনি এ দাবি জানান।
মোনায়েম মুন্না বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসতে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড করেন। পাটওয়ারীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে যদি ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এসব ককটেল কারা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে।
তাঁর দাবি, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করে পাটওয়ারীকে আইনের আওতায় আনা এবং গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে এসব ঘটনায় পাটওয়ারীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণের কথা তিনি তুলে ধরেননি।
সমাবেশে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গও তোলেন যুবদল সভাপতি। তিনি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে এক তরুণীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং ওই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন তোলেন, সেটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড।
মোনায়েম মুন্না দাবি করেন, গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ওই তরুণীর ওপর নির্যাতন করতেন। এ ঘটনায় গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব ছিল এলাকার ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এর বিপরীত ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যুবদল সভাপতি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আরেক নেতা এক মাদ্রাসাছাত্রের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। এসব ঘটনাকে জামায়াতের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নমুনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দলটির সমালোচনা করেন।
জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতেও আঁতাত করেছে এবং বর্তমানে গোপনে এমন কোনো সমঝোতা করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন মোনায়েম মুন্না। এ বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পাল্টা বক্তব্য সমাবেশে পাওয়া যায়নি।
দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার সঙ্গে যারা জড়িত, জনগণ তাদের চিহ্নিত করেছে বলে দাবি করেন মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
যুবদল রাজপথে রয়েছে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংগঠনটির সক্ষমতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা জানান যুবদল সভাপতি। একই সঙ্গে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম। সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় এতে যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া ও নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।