লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী
জ্বালানি সংকটের মধ্যে রংপুরের লংমার্চে সাড়ে চারশো গাড়ি অংশ নেয় এবং এর কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
কুমিল্লা: কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর কাছে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন।
মসজিদে নামাজ আদায়, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে, সামাজিক আন্দোলন ও বিভিন্ন গণজমায়েতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতি বাড়ায় নগরীতে এরই মধ্যে নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইটেও ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা-সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তথ্য রয়েছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমেও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইউসুফ মোল্লা বর্তমানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পির নামও সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আগের সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছিল।
নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, বহিষ্কৃত হলেও তিনি দলের বাইরে নন। অতীতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাপের মুখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। দল বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মনিরুল হক সাক্কু বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেছেন। দলের জন্য নিয়মিত কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, তাঁদের দলে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই নির্বাচনে অংশ নেবেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এনসিপি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রার্থী ঘোষণার পর তিনি নগরীর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুতে নিজের মতামতও তুলে ধরছেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর সেবা করার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। গণসংযোগের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছেন। দল তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জোটের সমর্থন পাওয়ার আশাও করছেন তিনি।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল খান পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।
২০১৭ সালের নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু আবারও মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি পেয়েছিলেন ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট; আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।
২০২২ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট এবং নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট।
২০২৪ সালের উপনির্বাচনে আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর তাঁর পদে ভোট হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট এবং নিজাম উদ্দিন কায়সার ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হলেও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও দলীয় মনোনয়নের বিষয়গুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। ফলে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর কুমিল্লা নগরীর নির্বাচনি সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।