কোহলির মনে এখনো গেঁথে আছে কামিন্সের সেই বল
২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে প্যাট কামিন্সের বলে ৫৪ রানে আউট হওয়ার মুহূর্ত এখনো মনে আছে বিরাট কোহলির। সেই ম্যাচে ১৪০-১৫০ রান করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ক্রীড়া: মাত্র ১১ বছর বয়সেই এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জিতে ইতিহাস গড়েছেন জাপানের ইউকি কুরিহারা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ই-স্পোর্টসের ‘পুয়ো পুয়ো চ্যাম্পিয়নস’ ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার ২৪ বছর বয়সী কাং দংশিনকে ১০–২ ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন তিনি।
ফাইনালের শুরুটা অবশ্য ইউকির পক্ষে ছিল না। প্রথম গেমে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন তিনি। এরপর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের গেমগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন জাপানের এই খুদে ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত ১০–২ ব্যবধানে জয় নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন।
সাফল্যের পর অন্য অনেক চ্যাম্পিয়নের মতো বড় কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি ইউকির মধ্যে। বরং পদক জয়ের পর কিছুটা লজ্জাই পেয়েছিলেন তিনি।
ইউকি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি একটু লজ্জা পেয়েছিলাম। তাই ঠিকমতো অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারিনি, মুখের ভাবও খুব একটা পরিবর্তন করতে পারিনি।’
তবে সোনার পদক হাতে পাওয়ার আনন্দ লুকাননি তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সত্যিই খুব খুশি। সোনার পদকটা খুব সুন্দর, চকচকে ও ভারী।’
ফাইনালের আগে সেমিফাইনালে ইউকি থাইল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সী থানারাক ওংকিটকুনকে ১০–১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে একের পর এক অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন তিনি।
‘পুয়ো পুয়ো চ্যাম্পিয়নস’ একটি পাজলভিত্তিক ই-স্পোর্টস গেম। এতে একই রঙের ব্লক সাজিয়ে প্রতিপক্ষের স্ক্রিনে চাপ তৈরি করে সেগুলো সরিয়ে দিতে হয়। ইউকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই এই গেমে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং পরে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নিতে শুরু করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি পেশাদার লাইসেন্সও পান।
ইউকি কুরিহারা এবারের এশিয়ান গেমসে জাপানের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাথলেট হিসেবে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে আয়োজক দেশ জাপানের এশিয়ান গেমস ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাথলেটও বলা হয়েছে।
তবে এশিয়ান গেমসের পুরো ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ পদকজয়ীর কোনো নির্ভরযোগ্য সর্বজনীন রেকর্ড নেই। ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ইন্দোনেশিয়ার বুংগা নিয়ামাস ১২ বছর বয়সে নারীদের স্কেটবোর্ডিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। আর ২০২২ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসে চীনের চুই চেনসি ১৩ বছর বয়সে নারীদের স্ট্রিট স্কেটবোর্ডিংয়ে সোনা জেতেন।
ইউকির এই সাফল্য তাই শুধু একটি সোনার পদক জয় নয়; এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে ই-স্পোর্টসে তরুণ খেলোয়াড়দের উত্থানেরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকল।