এগিয়ে থেকেও হার, এশিয়ান গেমসে জয়হীন বাংলাদেশ নারী হকি
এশিয়ান গেমসে নারী হকির পুল পর্বের শেষ ম্যাচে চাইনিজ তাইপের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে পুল ‘এ’-তে পঞ্চম হয়েছে লাল-সবুজের দল।
ক্রীড়া: ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হারের স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি বিরাট কোহলি। বিশেষ করে তাঁর নিজের আউটটি যেন আরও বেশি করে মনে গেঁথে আছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে ৫৪ রানে বোল্ড হয়ে ফিরেছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। সম্প্রতি সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে নিজের আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন কোহলি।
২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ভারত। ৮১ রানে তিন উইকেট হারানোর পর লোকেশ রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন কোহলি। দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান।
কোহলি ৬৩ বলে ৫৪ রান করে ক্রিজে ছিলেন। তখন বড় একটি ইনিংস খেলে ভারতকে শক্ত অবস্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে সেই পরিকল্পনা থেমে যায়।
জিওস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেন, ফাইনালে তিনি বড় একটি সেঞ্চুরি করার কথা ভাবছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল দলকে ৩০০ রানের বেশি সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাওয়া।
কোহলির ভাষায়, তিনি ৫৪ রানে ব্যাট করছিলেন এবং বড় একটি সেঞ্চুরি করার কথা ভাবছিলেন, যাতে ১৪০-১৫০ রান করতে পারেন। তাঁর ধারণা ছিল, এমন স্কোর করতে পারলে ভারত ম্যাচ জেতার মতো ভালো অবস্থানে থাকত।
কিন্তু কামিন্সের সেই বলেই বদলে যায় ম্যাচের পরিস্থিতি। কোহলি বলেন, তিনি যখন কামিন্সের বলটি খেলেছিলেন, সেই মুহূর্তটি অনেক দিন ধরে তাঁর মনে ছিল এবং এ ধরনের ঘটনা বারবার মনে পড়তে থাকে।
কোহলির কাছে ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের হার অনেকটা ২০১৬ সালের আইপিএল ফাইনালের মতোই ছিল। ২০২৫ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল শিরোপা জেতার আগে তাঁর মনে ২০১৬ সালের ফাইনালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হারের স্মৃতি ফিরে আসত।
সাক্ষাৎকারে কোহলি জানান, ২০২৫ সালে আইপিএল জেতার আগে ২০১৬ সালের ফাইনাল নিয়ে তাঁর যে অনুভূতি ছিল, বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়েও তাঁর একই ধরনের অনুভূতি হয়েছিল।
২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ২৪০ রান করে। জবাবে ট্রাভিস হেডের ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে ষষ্ঠবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া।
কোহলি আউট হওয়ার পর ভারতের ইনিংসে বড় ধস না নামলেও রানের গতি কমে যায়। লোকেশ রাহুল ১০৭ বলে ৬৬ রান করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৪০ রানেই থামে ভারতের ইনিংস।
অন্যদিকে কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা ভারতের ব্যাটারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন। কোহলির উইকেটটি তাই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
দুই বছর পরও সেই মুহূর্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোহলির বক্তব্যে স্পষ্ট, ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনাল তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অন্যতম গভীর স্মৃতি হয়ে আছে।