বরিশালেও আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদ্যাপন
বরিশালে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত, প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো মামুন খন্দকার।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত তাড়াশ উপজেলায় রোপা আমন চাষের ভরা মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে। সরকারি মূল্যে সার না পেয়ে কৃষকেরা চরম দিশেহারা হয়ে পড়লেও বাড়তি দাম দিলেই ডিলারদের গুদাম থেকে ঠিকই মিলছে সার। অথচ উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ডিলারদের কাছে কোনো সারই মজুত নেই।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। প্রতিবছর রোপা আমন, বোরো ও সরিষা আবাদের সময় এই চক্রটি কৌশলে কৃষকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি অর্থ আদায় করে।
উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি গ্রামের কৃষক বেলাত মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি দামে কোনো সার না পেয়ে তাকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ১ হাজার ৮৮০ টাকায় টিএসপি, ১ হাজার ৬৫০ টাকায় ইউরিয়া এবং ১ হাজার ৫০০ টাকায় পটাশ সার কিনতে হয়েছে। ১০০ বিঘার বেশি জমিতে আবাদ করা কৃষক আবু তালেব খানসহ অন্য কৃষকরাও জানান, সার না পেয়ে তারা ডিলারদের কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বিনসাড়া বাজারে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমোদিত ডিলার ‘মেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজ’-এর গুদামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রায় এক হাজার বস্তা সার মজুত রয়েছে। অথচ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে সেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুল ওয়াহাবের ছেলে জাহিদ হাসান কোনো সদুত্তর না দিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তাড়াশে ১ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দর অনুযায়ী প্রতি ৫০ কেজির বস্তা টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং পটাশ ১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। উপজেলায় বিসিআইসির ১২ জন, বিএডিপির ১৭ জন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২ জন সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের নিয়ম রয়েছে। এর বাইরে খোলাবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) তাড়াশ উপজেলার সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান বলেন, ডিলারের গুদামে সার থাকলে তা অবশ্যই সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হবে। সংকট দেখিয়ে সার গুদামজাত করা এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা স্পষ্টত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তাড়াশ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক রাজু অবিলম্বে এসব অবৈধ গুদামে অভিযান চালিয়ে সার জব্দ করে ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণের পাশাপাশি জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও তাড়াশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সরেজমিন তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।