সংলাপ ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা – রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
প্রধানমন্ত্রীর আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশ্লেষণধর্মী কলাম।
সম্প্রতি তিনটি ঘটনা রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে — বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার, রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিবাদ মিছিল এবং বিমানমন্ত্রীর ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তব্য। বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে তিনটি ঘটনাকে আলাদা মনে হলেও, একত্রে বিশ্লেষণ করলে এগুলো আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
প্রথমত, বীর মুক্তিযোদ্ধার গ্রেফতারের প্রশ্ন:
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতারুজ্জামান শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অংশ। তার গ্রেফতারের ঘটনায় জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা হলো — প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ছিল? যদি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা আইনের মাধ্যমে, মর্যাদার সঙ্গে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আচরণ সবসময়ই সংবেদনশীল হতে হয়। কারণ এই সম্মান শুধু ব্যক্তির নয়, গোটা মুক্তিযুদ্ধের।
এখানে আইনের শাসনের দুটি দিক আছে। এক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দুই, গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া যেন প্রতিহিংসামূলক বা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে না হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অভিযোগের সত্যতা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা।
দ্বিতীয়ত, জামায়াতের প্রতিবাদ মিছিল:
রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিবাদ মিছিল প্রমাণ করে, রাজপথের রাজনীতি আবার সক্রিয় হচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে। তবে সেই অধিকার পালনের ক্ষেত্রে জনশৃঙ্খলা ও নাগরিক ভোগান্তির বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না।
জামায়াতের এই মিছিলকে শুধু একটি দলের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে, বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা উচিত। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর তাদের সক্রিয়তা আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তৃতীয়ত, ‘আগামীর বাংলাদেশ’ ও বিমানমন্ত্রীর বক্তব্য
এই প্রেক্ষাপটেই বিমানমন্ত্রীর ‘আগামীর বাংলাদেশ’ নিয়ে বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যদি আগামীর বাংলাদেশকে সংলাপ, সহনশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখাতে চান, তবে তার প্রতিফলন হতে হবে বর্তমানের কর্মে। আগামীর বাংলাদেশ মানে শুধু অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, আগামীর বাংলাদেশ মানে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।
সম্প্রতিকালের এই তিনটি ঘটনা আমাদের সামনে তিনটি প্রশ্ন রাখে — আমরা কি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও আইনের শাসনকে একসঙ্গে ধারণ করতে পারছি? আমরা কি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারকে নিরাপদ রাখতে পারছি? আর আমরা কি ‘আগামীর বাংলাদেশ’কে কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখব, নাকি তাকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব?
আমরা বলতে চাই আগামীর বাংলাদেশ নির্ভর করবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের ওপর। সংঘাত নয়, সংলাপ; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার — এই ভিত্তিতেই আগামীর পথ রচিত হতে পারে। লেখক : রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাস্ট্রচিন্তক।