মাল্টার চেয়ে ১৪৬ গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কর কম
প্রতি কেজি মাল্টার আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা হলেও শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। মোট শুল্ক-করভার ১২১.৭৮ শতাংশ, যা ১৪৬টি গাড়ির চেয়েও বেশি।
ঢাকা: রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের পাশে রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। লেক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিনোদন ও অবসর কাটানোর নানা সুযোগ তৈরি করা হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, লেকের তলদেশ পরিষ্কারের পর পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আলোকসজ্জার কাজ শুরু হবে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থাসহ ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও অন্যান্য অবকাঠামোও পর্যায়ক্রমে উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি লেক পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান তিনি।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ধানমন্ডি লেকের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৫৬ মিটার। লেকের তলদেশে জমে থাকা প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার স্লাজ বা কাদা-বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ করা হবে। এ কাজে দুটি ভাসমান এক্সকাভেটর ও চারটি বার্জ ব্যবহার করা হবে। পুনঃখনন প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় এক বছর এবং প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা।
১৯৬০-এর দশকে পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশকে ঘিরে ধানমন্ডি লেকের বর্তমান অবয়ব গড়ে ওঠে। প্রায় ৮৬ একর জায়গাজুড়ে থাকা এলাকাটিতে বর্তমানে জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ৫৫ একর।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ক্ষয় এবং পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে ধানমন্ডি লেককে পুনরুদ্ধার ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে মোট ৭৫ কোটি টাকার একটি মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকা লেক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংস্কারে এবং ২৫ কোটি টাকা ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
লেকের পাড় সুরক্ষা ও ঢাল স্থিতিশীলকরণ, আধুনিক নিষ্কাশনব্যবস্থা, হাঁটার পথ সংস্কার, আলোকসজ্জা, সীমানাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা রেলিং মেরামতের কাজ করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা, অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ধানমন্ডি লেক এলাকায় তিনটি ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার এবং পার্কিং সুবিধা রাখা হবে।
এ ছাড়া উদ্ভিদের পরিচর্যা ও চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’, নিরাপদ খাবার পানি এবং জনবান্ধব শৌচাগারের ব্যবস্থাও থাকবে।
শিশুদের বিনোদনের জন্য স্পিডবোটসহ অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও পর্যায়ক্রমে সাজানো হবে।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের বিপরীতে ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে প্রায় ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমিতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নজরুল সরোবর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এখানে নজরুলসংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা আয়োজনের জন্য উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার ও গ্রিনরুম থাকবে। পাশাপাশি কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও বিদ্রোহী চেতনাকে তুলে ধরতে বুক কর্নার, লাইব্রেরি ও তথ্যফলক স্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনায় নগর বন, প্লাজা ও লেকের ঘাটও রয়েছে। কবির পছন্দের খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
ডিএসসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেকের তলদেশ স্লাজমুক্ত করার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই লেকের মূল সংস্কার এবং ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণের কাজ একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে।