ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার খেলবে জামাল ভুঁইয়ারা
জুন উইন্ডোতে ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বাফুফের ঐতিহাসিক দাবি নিয়ে বিতর্কের মাঝে এই সফরের খুঁটিনাটি পড়ুন।
ক্রীড়া বিশ্লেষণ: ক্রিকেট মাঠে ব্যাটসম্যানদের \’ভালো চোখ\’ নিয়ে প্রায়শই আলোচনা হয়, কিন্তু এই তীক্ষ্ণ দৃষ্টির রহস্য আসলে চোখে নয়, বরং মস্তিষ্ক ও শিখে নেওয়া দক্ষতার মধ্যে নিহিত। অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা বলছে, সবচেয়ে ভালো ব্যাটসম্যানরা তখনো দেখতে পান, যখন তাদের চোখও কাজ করে না।
প্রতিক্রিয়ার সময় (২০০ মিলিসেকেন্ড) এবং বলের গতি (১৫০ কিমি/ঘণ্টায় ৫০০ মিলিসেকেন্ডের কম) বিবেচনা করলে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চোখ দিয়ে বল অনুসরণ করা অসম্ভব। অথচ এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ব্যাটসম্যানকে শট খেলতে হয়।
অনুমান ও অভ্যস্ততা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন পেশাদার ব্যাটসম্যান আসলে অনুমান করে ক্রিকেট খেলেন। বল ছাড়ার ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই তাদের মুভমেন্ট ঠিক হয়ে যায়। বেশির ভাগ পেশাদার ব্যাটসম্যান বল ছাড়ার আগেই লেংথ বুঝে ফেলেন। বোলারদের শরীরী ভাষা, অ্যাকশন, গ্রিপ এবং ফিল্ডারদের অবস্থান দেখে তাদের মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে একটি চেনা প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন যেমন বলেছিলেন, “শরীরের অন্য পেশিগুলোর ট্রেনিং হয়, চোখও কিন্তু একটা পেশি।”

মুরালির রহস্যে আনোয়ারের ভয়: কিংবদন্তি ওপেনার সাঈদ আনোয়ার সাধারণত বল পড়তে পারলেও শ্রীলঙ্কান জাদুকর মুত্তিয়া মুরালিধরনকে খেলতে ভয় পেতেন। এমনকি এই সমস্যার সমাধানে তাঁকে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছেও যেতে হয়েছিল। আনোয়ার লক্ষ্য করেছিলেন, মুরালি প্রচলিত অফ স্পিনারদের মতো আঙুলের ভেতরে বল না ঘুরিয়ে ‘ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড’ বা হাতের পেছন থেকে বল ছাড়তেন। এর ফলে বলের গ্রিপ ও কবজির ডান দিকটা দেখতে সমস্যা হতো।
আনোয়ারের মতে, মুরালিধরন এমন একটা ধাঁধা ছিলেন, যা তাঁর কবজির ভেতরের সূত্রগুলো পড়তে বাধা দিত। তবে সাঈদ আনোয়ারের স্টাইল নিয়ে শেন ওয়ার্ন বলেছিলেন, “সংখ্যা নয় ওর স্টাইলটা মনে থাকে।”
দৃষ্টিশক্তির চেয়ে দক্ষতাই প্রধান: গবেষণায় দেখা গেছে, বল ছাড়ার মুহূর্তে আলো নিভিয়ে দিলেও ভালো মানের অপেশাদার ব্যাটসম্যানরা ভুল করেন, কিন্তু পেশাদাররা সঠিক শট খেলেন।
আরও অবাক করা তথ্য হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ডন ব্র্যাডম্যানের দৃষ্টিশক্তিকে ‘দুর্বল’ বলা হয়েছিল। মনসুর আলি খান পতৌদির এক চোখ নষ্ট হওয়ার পরও তাঁর টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে। অর্থাৎ, দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ হওয়ার চেয়ে শিখে নেওয়া দক্ষতাই ক্রিকেটে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
চোখের সমস্যাও ছিল: নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান রস টেলরও চোখের সমস্যায় ভুগেছিলেন। ‘পটেরেজিয়াম’ রোগে তাঁর চোখ টেনে ধরত এবং রাতে আলোয় বল দেখতে কষ্ট হতো। এই রোগ ধরা পড়ার আগের দুই বছরেও তাঁর গড় ছিল ৫১, আবার চিকিৎসার পরের দুই বছরেও গড় ছিল ৫১। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, চোখের অবস্থার চেয়ে ব্যাটসম্যানের মস্তিষ্ক ও কৌশল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ড. শেরিল কালডারের মতো বিশেষজ্ঞরা এখন খেলোয়াড়দের চোখের পেশির ট্রেনিং দেন, যাতে তারা বলকে অনুসরণের কৌশল ও চোখের ‘জাম্প’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ব্যাটসম্যানরা জানেন না তারা কী দেখছেন, তবু সবকিছুই দেখছেন—এই অনুভূতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা রহস্য।