ঢাকা: এক সপ্তাহের প্রাণান্তকর লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত কয়েকদিন ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
গত শুক্রবার দুপুরে পুরানা পল্টনে জুমার নামাজের পর প্রকাশ্যে দিবালোকে শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক মোটরসাইকেল আরোহী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ২টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তাঁর অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ বলে জানানোর পর থেকেই দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাদির ওপর হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে শনাক্ত করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইতিমধ্যে ভারতে আত্মগোপন করেছেন।
হানি হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। এর মধ্যে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সামিয়া ও শ্যালক সিপু ছাড়াও মানব পাচারকারী ও ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শরিফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর লড়ার প্রস্তুতি ছিল। তাঁর এই মৃত্যুতে দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।