ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি দ্বিতীয় ধাপে: নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক চুক্তি শেষে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হচ্ছে শুক্রবার। জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা এবং লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা।
কলকাতা প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মোড় নিয়েছে ওপার বাংলার রাজনীতি। একদিকে নিজের নির্বাচনী আসন ভবানীপুরের পরাজয় মেনে না নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, নির্বাচনী সহিংসতা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে সিআইডি দপ্তরে সাড়ে ছয় ঘণ্টা টানা জেরার মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নিজের আদি আসন ভবানীপুরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্বাচনের দিন গণনার শুরু থেকেই এই ফলাফলে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
আজ মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে এই নির্বাচনী ফলাফল বাতিল ও পুনঃগণনার দাবিতে মামলা করেন। মামলা দায়েরের সময় তাঁর সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, কুণাল ঘোষ এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম আসনে এই শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন মমতা। সেই হারের বিরুদ্ধেও তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন, যা দীর্ঘ পাঁচ বছরেও সুরাহা হয়নি। এবার ভবানীপুরের এই নতুন মামলা কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য এবং অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ‘ডিজে বাজানোর’ অভিযোগে আজ তীব্র জেরার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীব সরকার নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আজ দুপুর ১২টায় কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি।
সিআইডির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিষেকের সেই বিতর্কিত বক্তব্যের অডিও-ভিডিও ক্লিপ সামনে রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে জেরা শেষে বের হয়ে অভিষেক একে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত দুই দিনও নিয়োগ দুর্নীতি ও বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় ইডি ও সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হয়েছিল এই যুব নেতাকে।
একই দিনে ফুফুর (পিসি) আদালত যাত্রা এবং ভাতিজার (ভাইপো) সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। রাজ্য বিজেপির দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আদালতের কাঁধে চড়ে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে হেরে গিয়ে বিজেপি এখন সিআইডি ও ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে হেনস্তা করছে।