যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের কাছে এক বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে মার্কিন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিয়োজিত সংস্থা ‘সিক্রেট সার্ভিস’ এর সদস্যদের সঙ্গে ওই বন্দুকধারীর তীব্র গোলাগুলি চলে। এতে সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন ওই বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের দেওয়া বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে এএফপি ও সিএনএন এই খবর নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ও সেভেন্টিনথ স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের মোড়ের কাছে এই ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা চৌকি লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি গুলি ছুড়ছেন—এমন খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে দ্রুত অবস্থান নেন সিক্রেট সার্ভিসের পুলিশ কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে বন্দুকধারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মাঝে গুলি বিনিময় হলে ওই ব্যক্তি গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই গোলাগুলির ঘটনায় এক পথচারীও আহত হয়েছেন, তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
গুলির ঘটনার সময় হোয়াইট হাউসের নর্থ লন এলাকায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দ শুনতে পান সেখানে কর্মরত সাংবাদিকেরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সেলিনা ওয়াং এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, তিনি যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আইফোনে ভিডিও করছিলেন, ঠিক তখনই একসঙ্গে অনেকগুলো গুলির শব্দ শোনা যায়।
গোলাগুলি শুরু হতেই সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন এবং নর্থ লনে থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে জরুরি লকডাউন জারি করা হয়। রাইফেল হাতে সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ এজেন্টরা নর্থ লন এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রেস ব্রিফিং রুমের প্রবেশদ্বার আটকে দেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ইস্টার্ন টাইম (ইটি) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
এই ভয়াবহ হামলার ঘটনার পর এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণের কাছে গুলি চলার পর এফবিআইয়ের বিশেষ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং তাঁরা সিক্রেট সার্ভিসকে সার্বিক সহায়তা করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ মানুষকে ক্রমাগত হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে। পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বড় ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সিক্রেট সার্ভিস।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ৪ মে হোয়াইট হাউসের কাছেই সশস্ত্র এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গোলাগুলি হয়েছিল। তারও আগে গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের নৈশভোজের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ‘কোল টমাস অ্যালেন’ নামের এক ব্যক্তি শটগান নিয়ে নিরাপত্তা চৌকি পার হওয়ার সময় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এক মাসের ব্যবধানে হোয়াইট হাউসের এত কাছে পরপর তিনটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।