ক্রীড়া প্রতিবেদক:প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে জার্মানি। তবে টাইব্রেকারের আগে অতিরিক্ত সময়ে দলটির একটি জয়সূচক গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল হওয়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। মূলত এই একটি সিদ্ধান্তই চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টের শেষ ১৬ থেকে বিদায় করে দিল।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা ছিল। প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের হুলিও এনসিসোর হেডের জবাবে জার্মানির হয়ে গোল শোধ করেন কাই হাভার্টজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে জাল কাঁপান জার্মান ডিফেন্ডার জোনাথান টাহ। দল যখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার উদযাপনে মগ্ন, ঠিক তখনই ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির হস্তক্ষেপে মরক্কান রেফারি জালাল জায়েদকে পিচ-সাইড মনিটরে ডাকা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, কর্নার আসার মুহূর্তে জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে বাধা দিয়েছেন। ফিফার নতুন নিয়মে গোলরক্ষককে নিজেদের ছয় গজ বক্সে এভাবে ব্লক করাকে ফাউল হিসেবে গণ্য করায় রেফারি শেষ পর্যন্ত গোলটি বাতিল করে দেন।
এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে ফুটবল পণ্ডিত ও বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিবিসির এক আলোচনায় ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার একে ‘ভয়াবহ সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক মাঠে পড়ে গিয়ে রেফারি ও ভিএআরকে বোকা বানিয়েছে। ফুটবল একটি শারীরিক সংস্পর্শের খেলা, গোলরক্ষকের এভাবে পড়ে যাওয়াটা ছিল হাস্যকর।”
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান বলেন, “ওই গোলটি শতভাগ বৈধ ছিল এবং সেটি বাতিল করা একেবারেই হাস্যকর। তবে এত বড় টুর্নামেন্টের প্রথম নকআউট রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়াটা জার্মান ফুটবলের জন্য মোটেও কাম্য নয়।” এই মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরে পরবর্তীতে পেনাল্টি শুটআউটে তিনটি শট মিস করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় জার্মানি।