সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের উদ্যোগ প্রশংসনীয় : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য নিজস্ব আকাশসীমা সুরক্ষা করা অত্যন্ত মৌলিক শর্ত। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে চীনের তৈরি আধুনিক ৪.৫ জেনারেশনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান ‘জে-১০সিই’ কেনার প্রক্রিয়ায় সরকারের অগ্রগতি এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
সরকারের প্রধান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, বিমানবাহিনীর জন্য বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের যে পরিকল্পনা ও চুক্তিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে, তা দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও আকাশযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতায় চীনা জে-১০সিই বিমানের রিয়েল-কমব্যাট বা যুদ্ধক্ষেত্রের দক্ষতা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাজেট ও সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ আধুনিক প্রযুক্তি সমন্বয় করাই সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আধুনিক বিমানবাহিনীর শক্তি বিচারে ফরাসি নির্মিত ‘রাফাল’ কিংবা ইউরোপীয় ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’-কে অত্যন্ত উন্নত বিমান হিসেবে গণ্য করা হলেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিচারে জে-১০সিই বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি বিকল্প।

জে-১০সিই বিমানটি আধুনিক এএসএ রাডার এবং অতি-দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (যেমন: PL-15E) ব্যবহারে সক্ষম। এটি যুদ্ধের ময়দানে দূর থেকেই শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও নিখুঁত ট্র্যাকিং করতে পারে। ইউরোপীয় বা পশ্চিমা আধুনিক যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনের তৈরি সমমানের এই ফাইটার বিমানগুলোর ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সাশ্রয়ী। পরিমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ আউটপুট পাওয়ার জন্য এটি একটি কৌশলগত আর্থিক প্রকৌশল।

বিগত কয়েক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক ক্রয়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে দেশের স্বার্থ, বিমানবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা এবং রাজস্ব বাজেটের সামঞ্জস্য দেখে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্বাচন করার প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি ধরে রাখার পাশাপাশি একটি দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখতে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য। জে-১০সিই ফাইটার জেট সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা গেলে তা দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।

সময় এসেছে রাজনৈতিক বা বহিঃশক্তির বলয় থেকে মুক্ত থেকে জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক ও টেকসই প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলার।

লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।

Related News

শিক্ষা খাতের সংস্কার, নারী শিক্ষার অগ্রগতি ও আগামীর মানবসম্পদ : আতাউর রহমান মিন্টু

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা, নারী শিক্ষার অভাবনীয় অগ্রগতি এবং টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় রোডম্যাপ নিয়ে আতাউর রহমান মিন্টু-এর বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ।

মহানবী (সা.)-এর সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী, মহানবী (সা.)-এর শান্তি, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৬-দফা কৌশল ও জাতীয় নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

কক্সবাজার ও ভাসানচরের ১১.৮০ লাখ রোহিঙ্গা সংকট, আরাকান আর্মির উত্থান এবং সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ও ৬-দফা কৌশলের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি ও সার্কের নতুন সম্ভাবনা : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

সার্ক মহাসচিবের বিদায়ী সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শক্তিশালী সার্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি, জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ! বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। সুদের হার বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ও মার্কিন ঋণ সংকট নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

রাজপথের প্রতিবাদ থেকে দলীয় নীতি-নির্ধারণী কেন্দ্রবিন্দুতে রুহুল কবির রিজভী : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক বিকাশ ও সাংগঠনিক বিবর্তনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৃণমূলের আন্দোলন এবং রাজপথের কঠিন পরীক্ষা অতিক্রম করে দলীয় মূল নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে উন্নীত নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক বিজয়ের শুভ সূচনা: নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয়, নির্বাচনের ফলাফল ও নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতে আমূল সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ

সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১.৫১ লাখ কোটি টাকায় বৃদ্ধি, কারণ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

Search