কানাডার জলাধারে হঠাৎ ভেসে ওঠে ফুটবল মাঠের সমান রহস্যময় দ্বীপ, পরে অদৃশ্য
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি জলাধারে হঠাৎ ভেসে ওঠে সবুজ গাছপালায় ভরা আস্ত এক দ্বীপ। কিছুদিন পর রহস্যজনকভাবে তা আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। জানুন বিস্তারিত।
ঢাকা: বহুল আলোচিত ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৩০ জন পলাতক আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন মামলার শুনানিতে গ্রেপ্তার থাকা ১০ জন হাই-প্রোফাইল আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনাকর্তা ও কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা শাহরিয়ার কবির, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল এবং ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু। তবে অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পলাতক ৩০ আসামির তালিকায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হা হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ওমর ফারুক চৌধুরী।
এছাড়াও এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমানসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সাবেক ও তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পলাতক এসব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
১. ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পরিচালিত অভিযানে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা।
২. পরদিন অর্থাৎ ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। শাপলা চত্বরের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আসামিদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া এখন বিচারিক অঙ্গনের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।