ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় আরব লীগ
ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে আরব লীগ। গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
আন্তর্জাতিক: সরাসরি বিমান ও রেলপথের পর এবার প্রথমবারের মতো সড়কপথেও সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলো উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী তুমেন নদীর ওপর নির্মিত নতুন এই সড়ক সেতুটিকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের কৌশলগত সম্পর্ক ও অংশীদারত্বের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে দেশের পারমাণবিক শক্তি আরও জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। পাশাপাশি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার বা যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তিনি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়াকে সহায়তা করতে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে কুর্স্ক অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা পাঠানোর পর এই মিত্রতা নতুন মাত্রা পায়। সে বছরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পিয়ংইয়ং সফরকালে তুমেন নদীর ওপর এই সড়ক সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
১৯৫৯ সালে চালুকৃত ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ রেল সেতুর পাশেই নির্মিত এই নতুন সড়ক সেতু চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই সংযোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বহুগুণ জোরদার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের বৈরী অবস্থান ও অনমনীয় নীতি বজায় রেখেছে উত্তর কোরিয়া। কোরীয় উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত সামরিক মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ওয়াশিংটনের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।
এই পরিস্থিতির মাঝেই ধ্বংসাত্মক ও প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে সক্ষম ৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার উদ্বোধন করেছেন কিম জং উন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী রি সল জু এবং মেয়ে কিম জু আয়ে। এ সময় তাঁরা জাহাজে থাকা বিভিন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে কিম জং উন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, এর মাধ্যমে শত্রুদের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা পাঠানো হয়েছে। এখন সমুদ্রের ওপর ও নিচে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব কঠোরভাবে প্রয়োগ করার সময় এসেছে। নতুন এই যুদ্ধজাহাজে পারমাণবিক অস্ত্র বহন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো না হলেও আগামী আট মাসের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে আরও অপ্রতিরোধ্য ও শক্তিশালী করে তোলার একটি বড় পরিকল্পনা খুব শীঘ্রই জাতির সামনে তুলে ধরা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন কিম। জমকালো এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উদ্বোধনী কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।