ভক্সওয়াগন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
সংকট মোকাবিলায় ভক্সওয়াগনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি কারখানা বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে রাফায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সরঞ্জাম তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক: খেলাধুলা, নাচ কিংবা ১০০ মিটার দৌড়ে উসাইন বোল্টকেও পেছনে ফেলার মতো কসরত দেখানো মানবসদৃশ বা হিউম্যানয়েড রোবটগুলোকে এবার যুদ্ধক্ষেত্রে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সামরিক গবেষণাগার ও প্রতিরক্ষা খাত হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধে সরাসরি এসব রোবটকে মোতায়েনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের।
রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চীনের সামরিক বাহিনীর শতাধিক ক্রয় বিজ্ঞপ্তি, গবেষণাপত্র, পেটেন্ট এবং সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে সরবরাহ করা হিউম্যানয়েড রোবটের প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সামরিক রোবট তৈরির ক্ষেত্রে দ্রুত বেড়ে ওঠা এই বেসামরিক রোবটশিল্পের সহায়তা পাচ্ছে পিএলএ।
চীনের প্রধান সামরিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি’ (এনইউডিটি)-র গবেষকেরা শহুরে যুদ্ধ এবং শত্রুর এলাকায় অনুপ্রবেশের জন্য রোবটের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। গবেষণায় ছয়টি যুদ্ধরোবটকে দুটি আক্রমণকারী দলে ভাগ করে দলগতভাবে ভবন তল্লাশি ও শত্রুমুক্ত করার মডেল তৈরি করা হয়েছে। হিউম্যানয়েড রোবট ছাড়াও রোবট-কুকুর বা চালকবিহীন যান এই কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পিএলএর সরকারি সংবাদপত্র ‘পিএলএ ডেইলি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিউম্যানয়েড রোবটের কাজ যুদ্ধক্ষেত্রে রসদ বহন বা সহায়তা করার গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যতে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে। এমনকি মানুষ কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিশ্চিত করার পর রোবটকে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়ার মতো সম্ভাবনার কথাও আলোচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নরিনকোর মতো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফুসি’ নামের পূর্ণাঙ্গ হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করেছে, যা প্রহরার কাজ ছাড়াও দূরনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব।
যুদ্ধের ময়দানে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও নৈতিক প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। রোবটের ভারসাম্য রক্ষা, আশপাশ বোঝার ক্ষমতা এবং শক্তি খরচের বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিককে আলাদা করা কিংবা আত্মসমর্পণকারী শত্রুকে চেনার মতো জটিল মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের পক্ষে নেওয়া কঠিন। ফলে এআইচালিত অস্ত্র মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশও সামরিক কাজে হিউম্যানয়েড রোবটের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও গবেষণা চালালেও, রোবট তৈরিতে মার্কিন শিল্প চীনের তুলনায় বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নতি ও উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হলে অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবট দলবদ্ধভাবে অংশ নেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।