ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় আরব লীগ
ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে আরব লীগ। গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
আন্তর্জাতিক: পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে জনপ্রিয় নেতাদের ওপর সামরিক আমলাতন্ত্রের খড়্গহস্ত নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতে জুলফিকার আলী ভুট্টোর কমাগত উত্থান ও পরিণতি যে পথ ধরেছিল, বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানের ক্ষেত্রেও যেন সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সামরিক নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন কূটনীতি এবং দুই প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের ক্ষমতার সমীকরণ কীভাবে একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ককে কারাগারের অন্ধকূপে ঠেলে দেয়, তার এক নিখুঁত মিল খুঁজে পাওয়া যায় পাকিস্তান ভূরাজনীতিতে।
একসময় সামরিক আমলাতন্ত্রের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। কিন্তু পারমাণবিক বোমা প্রযুক্তি অর্জন নিয়ে হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে বিরোধে জড়ালেই তাঁর পতন ত্বরান্বিত হয়। ১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি এবং পরবর্তীতে প্রহসনের বিচারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তৎকালীন সময়ে কারাগরে ভুট্টোকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার যে নজির তৈরি হয়েছিল, বর্তমান আদিয়ালা জেলে বন্দী ইমরান খানের সঙ্গেও তার অদ্ভুত মিল রয়েছে।
ইমরান খানও একসময় সামরিক বাহিনীর কাঁধে ভর করে ক্ষমতায় এলেও স্বাধীন বৈদেশিক নীতি, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর দিনে রাশিয়া সফর এবং গোয়েন্দা প্রধান নিয়োগে নিজের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার ফলে সামরিক আমলাতন্ত্রের বিরাগভাজন হন। ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয় নতুন রাজনৈতিক ত্রিভুজ—যেখানে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে হাত মেলায় ঐতিহ্যবাহী শরিফ ও ভুট্টো পরিবার। আর এসবের পেছনে কাজ করে পশ্চিমা পরাশক্তি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে বর্তমানে শতাধিক মামলা ঝুলছে এবং বহু মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। বিচার বিভাগের নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁকে প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে এবং তাঁর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য প্রচারের ওপর রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। দেশজুড়ে রাজনৈতিক দমনপীড়ন এবং পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতাদের কারাবাস দলটিকে কোণঠাসা করে ফেললেও জনগণের মাঝে ইমরানের প্রতি সহানুভূতি দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও তৎকালীন জেনারেল জিয়া-উল-হকের কার্যপ্রণালীতে যথেষ্ট মিল রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুই আমলের মিল বেশ স্পষ্ট। ৭৯ বছরের স্বাধীনতাপ्राপ্তির পরও পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ এখনো সত্যিকারের মুক্তি বা ‘হাকিকি আজাদি’র অপেক্ষায় রয়েছে। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থেকেও ইমরান খানের এই মুক্তি আন্দোলন আজ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করছে, যা দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক ‘এস্টাবলিশমেন্ট’কে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।