প্রথমবার মা হলেন সোহিনী সরকার
প্রথমবার মা হয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। রোববার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। বাবা হয়েছেন শোভন গঙ্গোপাধ্যায়।
বিনোদন: ঋতুস্রাব নারীর শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হলেও এ সময়ের শারীরিক যন্ত্রণা ও কর্মক্ষেত্রে তৈরি হওয়া নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে এখনো অনেক নারী খোলাখুলি কথা বলতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে এবার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দক্ষিণ ভারতীয় ও বলিউড অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান।
সোহা আলি খানের পডকাস্টে পিরিয়ডের তীব্র ব্যথা, পিসিওএস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত সংকোচের বিষয়ে কথা বলেন শ্রুতি। রসিকতা করে তিনি বলেন, পুরুষদেরও পিরিয়ড হওয়া উচিত। তাহলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য ‘পিরিয়ড লিভ’-এর বিষয়টি হয়তো আরও গুরুত্ব পেত।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শ্রুতি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পিসিওএসের কারণে তাকে তীব্র পিরিয়ডের ব্যথা ও পেটের ক্র্যাম্পের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু শুটিং সেটে নিজের এই শারীরিক সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলতে অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি।
তার মতে, কর্মক্ষেত্রে ঋতুস্রাব নিয়ে কথা বলাটাই একসময় প্রায় নিষিদ্ধ বিষয় বলে মনে হতো। ফলে অসুস্থতা বা ব্যথার মধ্যেও অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হতো।
পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শ্রুতি বলেন, এর একটি সমাধান হিসেবে তিনি বহুবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন—যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়। তার যুক্তি, পুরুষরাও যদি একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতেন, তাহলে কর্মক্ষেত্রে ‘পিরিয়ড লিভ’ হয়তো আরও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেত।
শ্রুতির বক্তব্যে সোহা আলি খানও রসিকতা করে যোগ দেন। তিনি বলেন, পুরুষদেরও তখন হয়তো কে কতটা রক্তপাতের মুখোমুখি হচ্ছেন বা কার ট্যাম্পনের আকার কত বড়—এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো।
নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পুরুষ সহকর্মীদের পাওয়া সুবিধার তুলনাও করেছেন শ্রুতি। তিনি জানান, একবার তার এক সহ-অভিনেতা হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়ে শুটিংয়ের সময়সূচি সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার অনুরোধ করেছিলেন।
তখন শ্রুতিও প্রথমবার একজন পরিচালককে নিজের পিরিয়ডের সমস্যার কথা জানান। পরিচালকটির নিজেরও মেয়ে থাকায় তিনি বিষয়টি সহজভাবে নেন এবং জানান, তার মেয়েরও পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথা হয়।
শ্রুতির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পরই এ ধরনের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।
শ্রুতির বক্তব্যে কর্মক্ষেত্রে নারীদের মাসিকজনিত শারীরিক সমস্যাকে আরও স্বাভাবিকভাবে দেখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার মতে, নারীদের এমন স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকা জরুরি।
এর আগে রাশ্মিকা মান্দানা, জাহ্নবী কাপুর ও দীপিকা পাড়ুকোনও পিরিয়ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যেও ঋতুস্রাবের শারীরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সচেতনতা এবং সামাজিক সংকোচ কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।