ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের তাৎক্ষণিক অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA)-এর নেতাকর্মীসহ ৪০ থেকে ৫০ জন আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটক করে এবং পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধায় এ বিক্ষোভের সূচনা হয়। রাজধানী দিল্লি ছাড়া বিহার, কলকাতা, জম্মু, আসাম, ওডিশা ও মেঘালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে একই দাবিতে কংগ্রেস বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ জলকামান প্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) কার্যক্রম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথি ও চিঠিপত্র অনুযায়ী:
১৪ বার আপত্তি: গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী নির্বাচন কমিশনের গৃহীত অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
কমিশনকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত: ওই দুই কমিশনারের অভিযোগ, পূর্ণ কমিশনের নলেজ বা সম্মতি ছাড়াই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে এককভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত ছিল “অননুমোদিত ও বেআইনি”।
ভোটার তালিকা ও ডেটা নিরাপত্তা নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নতুন শর্ত যুক্ত করা, ডেটাবেজের কেন্দ্রীয়করণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তিগুলো তোলা হয়েছিল।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের নেতারা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশনের গৃহীত বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর একটি স্বাধীন পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিতর্ক নিয়ে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী:
“একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক সংস্থায় কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তের পূর্বে বিভিন্ন কমিশনারদের মধ্যে পৃথক পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ বা ভিন্নমত থাকা একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তবে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো সব সময় আইনকানুন মেনেই এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতেই গৃহীত হয়েছে।”