দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম ,প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস।
অর্থনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক নৌপথ সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারে। এক ধাক্কায় এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সরবরাহ ঘাটতির সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে নেমে এসেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন। অথচ চলতি মাসের গত ২ সেপ্টেম্বর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ ভোক্তাদের সিলিন্ডারপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো প্রধান আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোতে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জাহাজসংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ভাড়াও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এবং প্রধান নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিকল্প পথে পণ্য আনতে সময় ও ব্যয় দুটোই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা জানান, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো বা জাহাজ না পাওয়া। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে পর্যাপ্ত কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি বিইআরসির নির্ধারিত ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে ঠেকেছে। বিইআরসির মাসিক মূল্যসূত্রে এই বাড়তি পরিবহন খরচের চাপ পুরোপুরি সমন্বয় না করায়, লোকসান এড়াতে অনেক প্রতিষ্ঠান আমদানি সীমিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সিইও তানজীম চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো।
দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত হয়। আর এই চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই পূরণ করে থাকে বেসরকারি খাত।
বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ যথাসময়ে না পৌঁছানোর কারণেই মূলত সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট দ্রুত নিরসনে আমদানিকারকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি। তবে বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দ্রুত না কাটলে এবং পর্যাপ্ত কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে আগামী অক্টোবর মাসেও এই এলপিজি সংকট বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।