কৃষি ও অর্থনীতি

এসএমই ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছে সিটিজেনস ব্যাংক

অর্থনীতি: বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর প্রায় সাড়ে তিন বছর পর প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) এবং রিটেইল ব্যাংকিংয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। ব্যাংকটির লক্ষ্য, বড় করপোরেট ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থায়ন বাড়ানো।

ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন সিটিজেনস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলমগীর হোসেন।

সিটিজেনস ব্যাংক জানিয়েছে, পল্লি অঞ্চলে সংগৃহীত আমানত স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতে পুনর্বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গ্রামীণ এলাকায় উপশাখা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমডি আলমগীর হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকের মোট লেনদেনের প্রায় ৪২ শতাংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকটির দাবি, ২০২৬ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে সিটিজেনস ব্যাংকের শ্রেণীকৃত বা খেলাপি ঋণের হার ০ দশমিক ৩২ শতাংশ। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা এই হারকে তাদের ঋণ পোর্টফোলিওর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছে।

এমডি আলমগীর হোসেন বলেন, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ঋণ বিপণন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা পর্ষদের ব্যবসায়িক হস্তক্ষেপ না থাকার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক।

ব্যাংকটির ভাষ্য, অনেক নতুন উদ্যোক্তার প্রচলিত আর্থিক বিবরণী বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাঁদের ঋণপ্রাপ্তিতে সমস্যা হয়। এ ক্ষেত্রে পরামর্শক সেবার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত হতে সহায়তা করা হচ্ছে।

পেপারলেস ও ক্যাশলেস ব্যাংকিং সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাংকটি। এর অংশ হিসেবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাংলা কিউআর ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবিলিটি) সুবিধা উন্নয়নের কাজ চলছে।

ব্যাংকটির লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়িয়ে গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন আরও সহজ করা এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো।

আগামী ছয় মাসে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অর্থনীতিকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে আরও ২৭টি শাখা ও উপশাখা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির এমডি।

একই সঙ্গে দেশব্যাপী এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অতিক্ষুদ্র ঋণ প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা বলছে, সুশাসন বজায় রাখা, ঋণঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং খেলাপি ঋণ কম রাখার পাশাপাশি এসএমই ও রিটেইল গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণই তাদের আগামী দিনের কৌশলের মূল ভিত্তি।

Related News

ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৩ পয়সা

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের গড় দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। পাউন্ড, রুপি, ইউয়ান ও সিঙ্গাপুরি ডলারের দামও বেড়েছে।

দুই দিন পর আবার বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশের বাজারে টানা দুই দিন কমার পর আবারও সোনার দাম বেড়েছে। বুধবার ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।

দেশের বাজারে ফের কমল স্বর্ণ ও রুপার দাম

ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায়।

মুদ্রাবাজারে বিদেশি মুদ্রার ওঠানামা: ডলারের গড় দাম বেড়ে ১২২ টাকা ৮১ পয়সা

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশের মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দাম সামান্য বেড়েছে। অন্যান্য মুদ্রার বাজারেও দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা।

আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে তীব্র এলপিজি সংকট

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আমদানিতে বড় ধসের কারণে দেশের বাজারে তীব্র এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকায়।

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম ,প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস।

বিদ্যুৎ-এলএনজি ভর্তুকি ৪২ হাজার কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও এলএনজি ভর্তুকিতে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। প্রথম তিন মাসেই প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের পূর্বাভাস এডিবির

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

Search