ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে ২৫৭ হামলা, ৭০০ নিহতের দাবি
ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ২৫৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: স্বাধীনতার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৩টি হাতি শিকারের অনুমতি দিয়েছে আফ্রিকার দেশ বোতসোয়ানা। দেশটির বিভিন্ন জেলার জন্য নির্ধারিত শিকার কোটার অংশ হিসেবে এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, শিকার করা হাতির মাংস গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হবে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলো। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ান খামাও সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন।
বোতসোয়ানা ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতার ৬০তম বার্ষিকী উদযাপন করে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভোজের জন্য বন্যপ্রাণীর মাংস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সরকারের অনুমোদিত লাইসেন্সে আটটি জেলার জন্য মোট ২৩টি হাতি শিকারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই উদ্যোগের আওতায় কয়েক ডজন হরিণজাতীয় প্রাণী শিকারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ২৩টি হাতির সবগুলো শিকার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অনুমোদিত কোটার সংখ্যা এবং বাস্তবে শিকার হওয়া হাতির সংখ্যা এক নয়—এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বোতসোয়ানার বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যান বিভাগের উপপরিচালক ডিমাকাতসো এনতশেবে সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ থেকে পাওয়া সুবিধা এমন জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছানো উচিত, যারা বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি বসবাস করে এবং সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রিত হাতি শিকারকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও মানুষ-হাতির সংঘাত কমানোর একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় আফ্রিকান সাভানা হাতিকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে বোতসোয়ানায় আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার হাতি রয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
দেশটিতে মানুষ ও হাতির সংঘাতও দীর্ঘদিনের সমস্যা। হাতির পাল কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ক্ষতি করার পাশাপাশি কখনো কখনো মানুষের মৃত্যুর কারণও হয়। এই পরিস্থিতিতে হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে সরকার নিয়ন্ত্রিত শিকারকে সমর্থন করে।
২০১৯ সালে বোতসোয়ানা হাতি শিকারের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এরপর বিভিন্ন বছরে দেশটি ২০০ থেকে ৪০০-এর বেশি হাতি শিকারের বার্ষিক কোটা নির্ধারণ করেছে।
সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বোতসোয়ানা এলিফ্যান্ট প্রটেকশন সোসাইটি। সংগঠনটির আশঙ্কা, একটি হাতিকে হত্যা করা হলে তার পাল প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সংগঠনটি আরও মনে করে, এ ধরনের সরকারি অনুমোদিত শিকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং হাতি হত্যাকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বোতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট থাকা ইয়ান খামাও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, জাতীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে হাতি হত্যার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতের জাতীয় আয়োজনগুলোতেও একই ধরনের প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে।
হাতি শিকার নিয়ে খামার অবস্থান নতুন নয়। বোতসোয়ানার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও ট্রফি হান্টিং নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাঁর অবস্থানগত পার্থক্য দীর্ঘদিনের।
বোতসোয়ানার বিপুল হাতির সংখ্যা ও নিয়ন্ত্রিত শিকার নিয়ে ২০২৪ সালেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক হয়েছিল। সে সময় দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোকগউইটসি মাসিসি যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সমালোচনার জবাবে ওই দেশগুলোতে হাজার হাজার হাতি পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
বর্তমান সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আবারও বোতসোয়ানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত শিকার এবং মানুষ-হাতির সংঘাত মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা সামনে এসেছে।