আন্তর্জাতিক: শ্রেণিকক্ষের বেহাল দশা, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে চলমান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) উত্তরাঞ্চলীয় পা-দ্য-কালে অঞ্চলের লঁস শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি বিস্ফোরকে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেড ওই শিক্ষার্থী হাতে তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লিল শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন ওই কিশোর বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন দাবি করেছেন, গ্রেনেডটি সরাসরি ওই শিক্ষার্থীর ওপর আঘাত করেছিল।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে এর আগেও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে মধ্যাঞ্চলের তুর শহরে বিক্ষোভের সময় পুলিশের আঘাতে ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। পরে তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর পাওয়া যায়।
সরকারি হিসাবে, আন্দোলন শুরুর পর দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২১৫ জন শিক্ষার্থী এবং ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে দেশটির নজরদারি সংস্থা ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি স্কুলে শিক্ষকদের ধর্মঘটের সমর্থনে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত পাঠ্যসূচি, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার সঙ্গে অনুপযোগী শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার ফ্রান্সের প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫০০টিতে ক্লাস বন্ধ ছিল। বিভিন্ন এলাকায় বাসস্টপ ভাঙচুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটকে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় ২৪টি স্কুল ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৫ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও তুলনামূলকভাবে গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি রয়েছে এমন সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগে ফ্রান্সের মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে ফরাসি সরকারের দাবি, আন্দোলনকে ঘিরে অতি-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
এদিকে বিক্ষোভের বিস্তার এবং শিক্ষার্থীদের হতাহতের ঘটনায় দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা এবং সরকারের শিক্ষা নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।