নোয়াখালী: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ২০১৩ সালের ৭ শহীদ স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, হাদির ওপর হামলা চালিয়েছে একটি ‘গোপন বাহিনী, নিষিদ্ধ বাহিনী’।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সেনানায়ক’ এবং আজীবন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি জানান, হাদি তাঁকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক দিন আগেও ফোন করে হত্যার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
সাদ্দাম বলেন, শিবিরের পক্ষ থেকে বারবার সাবধানে থাকার অনুরোধ জানালেও হাদি তা এড়িয়ে যান। হাদির প্রত্যয় ছিল:
“মউতের ফয়সালা আসমানে হয়… ঘরের ভেতর থেকে মৃত্যুবরণ করতে নয়, রাজপথে থেকে মৃত্যুবরণ করার জন্য আমার জন্ম হয়েছে।”
শিবিরের সেক্রেটারি হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, আল্লাহ যেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে আরও কিছু দিনের জন্য ফিরিয়ে দেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জোর দিয়ে বলেন, তারা মনে করেছে গুলি করে এই কণ্ঠস্বরকে দমাতে পারবে, কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছে, “আমরা মায়ের উদর থেকে শাহাদাতের তামান্না নিয়ে এই জমিনে পা রেখেছি।”
তিনি বলেন, “সুতরাং যারা মনে করে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে গুম, খুন, হত্যা, দেশান্তরিত করার মধ্যে দিয়ে নির্বাসিত করতে পারবা, তোমরা দেখে নাও… এক রক্তের বিনিময়ে হাজারো রক্ত জন্ম নেয়।”
“সুতরাং যারা মনে করে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে গুম, খুন, হত্যা, দেশান্তরিত করার মধ্যে দিয়ে নির্বাসিত করতে পারবা, তোমরা দেখে নাও… এক রক্তের বিনিময়ে হাজারো রক্ত জন্ম নেয়।”
ইসলামী ছাত্রশিবির নোয়াখালী জেলা দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ সাইফুর রসুল ফুহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইসহাক খন্দকারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও যুবক অংশগ্রহণ করেন।