চীনে হোহাই ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপের আবেদন
চীনের হোহাই ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ অর্থায়িত সিএসসি স্কলারশিপের আবেদন শুরু। স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামের সুযোগ-সুবিধা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতির মনন গঠিত হয় তার শিক্ষাব্যবস্থা ও সঠিক ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের মানুষ এক নতুন, বৈষম্যহীন এবং প্রায়োগিক শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছিল। সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের ঘোষণা সেই স্বপ্নেরই এক সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় বাস্তবায়ন। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বাধ্যতামূলক বিষয় চালু করা, পাঠ্যবইয়ে জুলাই ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস অন্তর্ভুক্তি এবং ২০২৮ সাল থেকে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম চালুর মহাপরিকল্পনা প্রমাণ করে যে—বর্তমান সরকার প্রথাগত মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের হয়ে এসে ‘দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক’ এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাক্রম সংশোধন এবং ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জনের যে কাজ শুরু হয়েছিল, বর্তমান সরকার তাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিচ্ছে। ২০২৫ সালের পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কবিতা ও প্রবন্ধ যুক্ত করার পর, চলতি বছরের (২০২৬) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সাথে স্থান পেয়েছে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসও। ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্তরের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়েও ব্যাপক পরিমার্জন ও নতুন বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ; কারণ নতুন প্রজন্ম যদি তাদের ভাই-বোনদের রক্তে কেনা দ্বিতীয় স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস না জানে, তবে দেশপ্রেমের ভিত্তি কখনোই মজবুত হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় শিক্ষাক্রমকে যেভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, তার প্রথম বড় ধাপ দেখা যাবে ২০২৭ সালে। উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হচ্ছে ‘ক্রীড়া’ এবং ‘সংস্কৃতি’ নামক দুটি বিষয়, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বিকশিত করবে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হচ্ছে দুটি যুগান্তকারী বিষয়—‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। কারিগরি শিক্ষা কিশোর বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হতে শেখাবে। আর ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কেবল একটি বিষয় নয়, এটি এমন একটি কাঠামো যা নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণও এই কোর্সের আওতাভুক্ত থাকবে। এছাড়া, বৈশ্বিক যুগে টিকে থাকার জন্য বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘তৃতীয় ভাষা’ (Third Language) শেখার বড় অধ্যায় যুক্ত করার পরিকল্পনাও দারুণ আশাব্যঞ্জক।
শিক্ষাক্রম রাতারাতি পরিবর্তন করার সস্তা জনপ্রিয়তার পথে হাঁটেননি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে জানিয়েছেন, “শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা তিন মাসে সম্ভব নয়।” ২০২৭ সালে পরিমার্জিত রূপ দেওয়ার পর, সম্পূর্ণ ‘শিখন ফল অর্জন’ (Learning Outcomes)-কে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোদমে বাস্তবায়ন শুরু হবে, যার রূপরেখা প্রণয়নের কাজ দ্রুতই শুরু হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকেই এনসিটিবি (NCTB) এই বিশাল রূপান্তরের কাজটি করছে।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরীক্ষা পদ্ধতিতেও সরকার কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত পরীক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিচে দেওয়া হলো:
| পরীক্ষার নাম | ইভেন্টের বিবরণ | নির্ধারিত তারিখ (২০২৬/২০২৭) |
| ২০২৬ সালের এসএসসি | ফলাফল প্রকাশ | ২০ জুলাই, ২০২৬ |
| ২০২৭ সালের এসএসসি | পরীক্ষা শুরু ও শেষ | ৭ জানুয়ারি – ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ |
| ২০২৭ সালের এইচএসসি | পরীক্ষা শুরু ও শেষ | ৬ জুন – ১৩ জুলাই, ২০২৭ |
পবিত্র রমজান মাসের আগেই যেন ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হতে পারে, সেজন্য অংশীজনদের পরামর্শে ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক একটি সিদ্ধান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে কেবল পাঠ্যসূচি নয়, বরং তরুণদের মেধা বিকাশে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট, ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। শিক্ষা ব্যবস্থাকে খেলাধুলা ও ইনোভেশনের সাথে যুক্ত করার এই সমন্বিত প্রয়াস সত্যিই অভাবনীয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী শিক্ষা দর্শন এবং উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে যে সংস্কারের হাওয়া বইছে, তা এক ‘স্মার্ট ও মানবিক’ প্রজন্ম গড়ে তোলার ভিত্তিপ্রস্তর। জিপিএ-৫ এর অন্ধ ইঁদুর দৌড় আর চার দেয়ালের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে আমাদের সন্তানরা এখন আনন্দের সাথে বিদ্যালয়ে যাবে, কাজ শিখবে এবং দেশের সঠিক ইতিহাস জানবে। এই মহাপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের বাংলাদেশ হবে এশিয়ার অন্যতম প্রধান মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র।