মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৫৭,৩০১ কোটি টাকা বরাদ্দ। ৫০০ ভাষা ল্যাব ও অনগ্রসর এলাকায় ৫০০ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন।
দেশের সয়াবিন চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই উৎপাদিত হয় মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে, যে কারণে এই জেলাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘সয়াবিনের রাজধানী’ বলা হয়ে থাকে। চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলা থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার সয়াবিন আয়ের এক বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আমন ধান কাটার পর চাষাবাদে কিছুটা দেরি হওয়া এবং শেষ সময়ে এসে কালবৈশাখীর আকস্মিক বৃষ্টি কিছু কিছু প্রান্তিক কৃষকের মুখে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে প্রতি বছরই আমন ধান কাটার পরপরই কৃষকরা সয়াবিন চাষে ঝুঁকে পড়েন। ধানের তুলনায় সয়াবিন চাষে শারীরিক পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু বাজারে এর লাভ ও চাহিদা অনেক বেশি।
চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সয়াবিন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি। তবে অনুকূল পরিবেশের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার রেকর্ড ৪৫ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই বিশাল পরিমাণ জমি থেকে এবার প্রায় ৯০ হাজার১৩০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদিত হতে পারে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চারশত কোটি টাকা।
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ জমিতেই এবার সয়াবিনের ফলন চমৎকার হয়েছে। তবে যেসব চাষি কিছুটা দেরিতে বীজ বুনেছিলেন, তারা পড়েছেন কালবৈশাখী ও অসময়ের বৃষ্টির কবলে। জমিতে পানি জমে যাওয়ার কারণে কোনো কোনো এলাকার ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নিচু জমির প্রায় অর্ধেক সয়াবিন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে অনেক প্রান্তিক চাষির উৎপাদন খরচ ওঠানোই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। প্রতি বছরই মৌসুমের শেষ দিকে এসে এমন বৃষ্টির মুখোমুখি হতে হয় বলে জানান তারা। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য পেতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরকারি পরামর্শ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
মৌসুমের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জহির আহমেদ জানান “আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ হাজার ৬০০ হেক্টর, কিন্তু পরিবেশ অনুকূলে থাকায় অর্জন হয়েছে ৪৫ হাজার ৬৫ হেক্টর। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ জমির সয়াবিন সফলভাবে কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই বছর জেলা থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার সয়াবিন অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।”
তিনি আরও জানান, যেসব জমিতে এখনও ফসল বাকি আছে, সেখানের কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সয়াবিন কেটে ফেলার জন্য কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন।
জাতীয় অর্থনীতিতে সয়াবিনের মতো ভোজ্যতেল ও পোল্ট্রি ফিডের অন্যতম প্রধান কাঁচামালের জোগান দিয়ে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। সরকার যদি এই অঞ্চলে সয়াবিন সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করে এবং কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল আগাম জাতের সয়াবিন বীজ সরবরাহ করে, তবে কালবৈশাখীর এই ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।