শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন | ছবি : সংগৃহীত
শুধুমাত্র প্রথাগত অ্যাকাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের জাতীয় বাজেটে কারিগরি শিক্ষাখাতের উন্নয়নে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম ‘ডিন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিন অ্যাওয়ার্ডকে একটি অত্যন্ত অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত সময়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আজকে যারা এই সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন, তাঁরা যেমন ভবিষ্যতে আরও ভালো করার শক্তি পাবেন, ঠিক তেমনি এই অ্যাকাডেমিক অ্যাক্সিলেন্স বা মেধার উৎকর্ষতা তাঁদের মনে সমাজের কল্যাণ ও দেশের জন্য কাজ করার বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাখাতের সামগ্রিক বাজেটের রূপরেখা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে আগামী জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৩.৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের মানবসম্পদকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে কেবল শিক্ষক বা সরকার একা সফল হতে পারবে না; এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে শুধু জিপিএ-৫ অর্জনই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নীতি-নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। তবেই দেশ একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম লাভ করবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন অতীতে শিক্ষাখাতের অবহেলার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাখাতে মুখে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি করা হলেও তা জিডিপির অনুপাতে মোটেও সন্তোষজনক বা বাস্তবসম্মত ছিলো না। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহাসিক রূপান্তর ও নারী শিক্ষার প্রসারের কথা স্মরণ করে এ সময় তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে শিক্ষাখাতে গৃহীত বিভিন্ন ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথা শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে টেকসই করতে এবং সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের সচেতন নাগরিককে সর্বদা সতর্ক ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক এবং কৃতি শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।