হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের মুখ দেখল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে প্রথম জয় পেলেও নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে সেলেসাওদের এখনো বেশ কিছু কঠিন সমীকরণ মেলাতে হবে।
‘সি’ গ্রুপের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ব্রাজিল। এই মুহূর্তে তাদের গোল ব্যবধান +৩। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে (+১) পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট ও ০ গোল ব্যবধান নিয়ে তালিকার তিনে অবস্থান করছে স্কটল্যান্ড।
পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের মাত্র ১ পয়েন্ট (ড্র) হলেই চলবে। তবে ড্র করলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। কারণ গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল হাইতির মুখোমুখি হবে মরক্কো, যারা ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। মরক্কো সেই ম্যাচে সহজ জয় পাবে—এমনটাই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তাই ব্রাজিল যদি ড্র করে আর মরক্কো জিতে যায়, তবে মরক্কোই গ্রুপসেরা হয়ে পরের রাউন্ডে যাবে।
গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে নকআউটে গেলে ব্রাজিলকে খেলতে হবে ‘এফ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলটির বিপক্ষে। সেক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান অথবা নেদারল্যান্ডস। শুধু তাই নয়, রানার্স-আপ হলে ব্রাজিলের নকআউট ব্র্যাকেটও বদলে যাবে, যার ফলে কোয়ার্টার ফাইনালেই কোনো শক্তিশালী পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়ার বড় ঝুঁকি থাকবে।
এই জটিলতা এড়াতে শেষ ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই ব্রাজিলের সামনে। তবে কেবল ১-০ গোলের জয়ও তাদের গ্রুপসেরা হওয়ার নিশ্চিন্ততা দেবে না। একই সময়ে মরক্কো ও হাইতির ম্যাচের ফলের দিকেও নজর রাখতে হবে। মরক্কো যদি নিজেদের ম্যাচে ৩ গোলের ব্যবধানে জিতে যায়, তবে দুই দলেরই পয়েন্ট, গোল ব্যবধান এবং গোলসংখ্যা হুবহু এক হয়ে যাবে। তখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে ‘ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড’ (কার্ড দেখার সংখ্যা) বিবেচনায় আনা হবে। এই ধরনের জটিলতা এড়াতে ব্রাজিলকে অন্তত ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে।
ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, শেষ ম্যাচে দলে ফিরছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে নিয়েই বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্যে দল সাজাবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।