নিজস্ব প্রতিবেদক: সচেতনতার অভাবে কোনো শিশুই যেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। তিনি বলেন, অপুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’র ঘাটতিজনিত জটিলতা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর আজিমপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে (প্রেস ব্রিফিং) তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা খানম বলেন, একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। ভিটামিন ‘এ’ শুধু রাতকানা ও অন্ধত্বই প্রতিরোধ করে না, এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও হামের মতো রোগের জটিলতা কমিয়ে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এটি বড় ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলার কোনো শিশুই যেন এই জীবনরক্ষাকারী ক্যাপসুল থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে বস্তি, ভাসমান ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এই বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে সংবাদমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন সারা দেশে একযোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এবার সারা দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওনোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৯ জন শিশু।
কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের একটি করে লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক এই কর্মসূচি সফল করতে জাতীয় পুষ্টি সেবা, সেভ দ্য চিলড্রেন, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালসহ মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানের প্রশংসা করেন।