দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার দেশ মালয়েশিয়ায় দুই দিনের অত্যন্ত ব্যস্ত ও ফলপ্রসূ সরকারি সফর সমাপ্ত করে এবার এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় (৯টা ৪৫ মিনিটে) গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রীর চীন পৌঁছানোর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নতুন সরকারের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এর আগে মালয়েশিয়ায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও পূর্বনির্ধারিত সরকারি কর্মসূচিতে অত্যন্ত সফলভাবে অংশ নেন। কুয়ালালামপুরের সেই দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও সূচি অনুযায়ী তিনি তাঁর সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ভিভিআইপি ফ্লাইট) চীনের পথে সপরিবারে ও সফরসঙ্গীসহ যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকার প্রধানকে বর্ণাঢ্য লালগালিচা সংবর্ধনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছিল।
কুয়ালালামপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা পর্যায়ের ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ২৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দুই দিনের এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণ, নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত করার মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার সফল কূটনৈতিক মিশন শেষে চীনে পৌঁছানোর পর এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ডালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিশেষ সেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।