নড়াগাতী থানা পুলিশের অপরাধ ও মাদকবিরোধী তৎপরতা
নড়াইলের কালিয়ার নড়াগাতীতে মাদক, চুরি ও ডাকাতি দমনে দিনরাত মাঠে তৎপর পুলিশ। এলাকা অপরাধমুক্ত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাইলেন ওসি আব্দুর রহিম।
অসহনীয় ও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা টানা লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তি ও দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন নড়াইলের নড়াগাতী থানার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যে দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনজীবন একপ্রকার অচল হয়ে পড়েছে। চড়া তাপমাত্রার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, প্রবীণ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। এই বিদ্যুৎ সংকটের সাথে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা, যা নিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের মনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে ও রাতে কখনো একটানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না, আবার বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরপর আসা-যাওয়ার খেলায় মেতে উঠছে। ফলে বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক ছোট দোকানদার, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার-ফটোকপির দোকান ও সেলুন মালিকদের বিকল্প হিসেবে জেনারেটর কিংবা চার্জার ফ্যান ব্যবহার করতে গিয়ে আয়ের সিংহভাগই জ্বালানি বাবদ খরচ করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় নষ্ট হয়ে আয় কমেছে, অথচ দোকান পরিচালনা ও বিকল্প ব্যবস্থার খরচ বহুগুণ বেড়েছে।
অনবরত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত দামি ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র উৎকণ্ঠা। অনাকাঙ্ক্ষিত ভোল্টেজ ওঠানামার ফলে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, আইপিএস ও ইন্টারনেট রাউটার সহ বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার চরম ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে। আলো ও ফ্যান বন্ধ থাকায় অসহ্য গরমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। স্বাভাবিক ঘুম ও বিশ্রাম ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে হাতপাখা কিংবা চার্জার ফ্যানের ওপর নির্ভর করছেন।
এদিকে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাঝেই ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় গ্রাহকদের প্রশ্ন—মাসের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও বিলের পরিমাণ কমার বদলে কেন বেড়ে যাচ্ছে? অনেকের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি বিল ধরা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসার মন্দা ভাব এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এই বাড়তি বিলে ডাবল লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা, মিটারের সঠিক রিডিং নিশ্চিত করা এবং ভূতুড়ে বিলের রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও জরুরি তদন্ত দাবি করেছেন নড়াগাতীর সর্বস্তরের ভুক্তভোগী মানুষ।