গুমের অন্ধকার থেকে ন্যায়বিচারের পথে বাংলাদেশ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস, গুম তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট, তারেক রহমানের অনুভূতি এবং গুম প্রতিরোধ আইনের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।
১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে সিপাহসালের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই রক্তিম মুহূর্তে দেশের সর্বস্তরের মেহনতি জনগণ, সমর্থক, রাজনৈতিক কর্মী এবং প্রবাসে অবস্থানরত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও লাল গোলাপের অভিনন্দন।
একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সুসংহত করতে হলে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতি পাতায় বিএনপির অবদান ও ত্যাগ ঐতিহাসিকভাবে স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
বিএনপির জন্ম ও ক্ষমতার অধ্যায়গুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকাঠামোতে কয়েকটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, যা আজকের আধুনিক বাংলাদেশের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়নকে কৃষিজমি ও গ্রামকেন্দ্রিক করে তোলেন। খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি ঋণ ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতির সূচনা ঘটে।
বাংলাদেশের আজকের প্রধান দুটি অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি—তৈরি পোশাক শিল্প এবং জনশক্তি রপ্তানির সুপরিকল্পিত সূচনা হয়েছিল বিএনপি সরকারের সময়, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। একদলীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তন এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সংহত করে।
দীর্ঘ পথচলায় নানা ঘাত-প্রতিঘাত, নির্যাতন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন পার করে বিএনপি আজ এক নতুন পরিপক্কতায় পৌঁছেছে। দেশনায়ক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দলটি কেবল অতীতের ইতিহাসকেই স্মরণ করছে না; বরং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা বাস্তবায়ন করছে।
আইনি সমতা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের চিরতরে অবসান এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান প্রতিশ্রুতি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও হাই-টেক শিল্পে জাতীয় অবকাঠামো তৈরি করা। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে রেখে প্রতিবেশী ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সাথে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন।
৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কেবল উদযাপন বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দিন নয়; এটি বিগত দিনের সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আগামী দিনের টেকসই ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারের দিন। সংঘাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে পেছনে ফেলে ঐক্য, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হোক এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মূল চেতনা। জাতীয়তাবাদী শক্তি যেন দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও গণমানুষের অধিকার সুরক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকে—এই কামনা করি।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।