গুমের অন্ধকার থেকে ন্যায়বিচারের পথে বাংলাদেশ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস, গুম তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট, তারেক রহমানের অনুভূতি এবং গুম প্রতিরোধ আইনের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।
রাজধানী ঢাকা আজ যেন এক অচল স্থবির নগরী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকে কোটি কোটি মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির যে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে, তা অনস্বীকার্য। মেগা প্রজেক্ট ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলার অভাবে এই যানজট নিরসনে কার্যকর কোনো ফলাফল দেখা যায়নি।
ঠিক এমনই এক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে একাধিক নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, তা রাজধানীবাসী
র মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রশংসনীয় হলেও আমাদের অতীতের বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, সঠিক তদারকি ও সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসমন্বয় না থাকলে যেকোনো সুপরিকল্পনা কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
যানজট নিরসনে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার বদলে বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত গতিশীল একটি উদ্যোগ।
ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে যে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়, তা নিরসনে চার মাসের মধ্যে অটোমেটেড ইটিসি সিস্টেম ও অ্যাপ চালুর সিদ্ধান্ত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার বড় মাইলফলক।
রাজধানীর বুক চিরে যাওয়া ইন্টারসিটি বাসগুলোকে নগরীর কেন্দ্রে ঢুকতে না দিয়ে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর এবং তাৎক্ষণিক চাপ সামলাতে ঝিলমিলে আগামী চার মাসের মধ্যে ১৫ একর জমিতে অস্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দূরদর্শী। পাশাপাশি গাবতলী বাস টার্মিনালের সম্প্রসারণ দূরপাল্লার বাসের যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করবে।
ঢাকা শহরের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত কারওয়ান বাজারের পাইকারি কিচেন মার্কেটকে গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে তেজগাঁও-ফার্মগেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজটের স্থায়ী সমাধান মিলবে।
সড়কের অপ্রয়োজনীয় বোতলনেক চিহ্নিত করতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের সমীক্ষা পর্যালোচনার নির্দেশনা প্রমাণ করে যে সরকার বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক সমাধান চাচ্ছে।
এ ছাড়াও সচিবালয় কেন্দ্রিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিং চালুর উদ্যোগ ও অবৈধ স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ পরিবহন খাতে ইতিবাচক শৃঙ্খলা আনবে।
যেকোনো পরিকল্পনার সফলতার মূল ভিত্তি হলো তার সময়মত বাস্তবায়ন। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ট্রাফিক বিভাগ), সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য, গতিশীল ও আধুনিক মেগাসিটিতে রূপান্তর করা নিশ্চিতভাবেই সম্ভব হবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক।