চলচ্চিত্রে নিজেকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান অভিনেত্রী: ভাবনা
চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান আশনা হাবীব ভাবনা। শুধু আর্টিস্টিক নয়, পুরোদমে কমার্শিয়াল সিনেমাতেও অভিনয় করতে চান এই অভিনেত্রী।
বিনোদন: মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার সেই বিতর্ক এবং বাবার রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ আকবর জানান, তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবর ছিলেন কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আমৃত্যু তিনি এই দলের আদর্শের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও তিনি মুসলিম লীগের টিকিটে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। মুসলিম লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুবাদেই একাত্তরে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন আসিফ। তবে তাঁর দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাঁর বাবা সে সময় অসংখ্য মানুষের জীবন, সম্পদ এবং বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।
বাবার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে আসিফ বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। তবে শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’
এ প্রসঙ্গে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা উল্লেখ করে আসিফ দাবি করেন, তাঁর বাবা সে সময় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিশ্চিত ফাঁসির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তাঁর নিজের লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়েও তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আসিফ বলেন, বিষয়টিকে একপেশেভাবে দেখা ঠিক হবে না। মুসলিম লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে তাঁর ওপর সাংগঠনিক যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটাই পালন করেছেন। যেহেতু তিনি বহু মানুষের জানমাল রক্ষা করেছিলেন, তাই তাঁকে সরাসরি স্বাধীনতাবিরোধী বলা যায় না বলে মনে করেন এই গায়ক।
শুধু একাত্তর নয়, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন আসিফ। তাঁর দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাবা একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়ার এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। যদিও সেই চিঠিটি এখন আর তাঁদের পরিবারের কাছে সংরক্ষিত নেই, তবে তাঁর বড় ভাইয়েরা এই ঘটনার কথা জানেন বলে জানান তিনি।
স্বাধীনতার পর আলী আকবরের কাস্টডিতে যাওয়ার বিষয়ে আসিফ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তাঁর বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার স্বার্থে স্বেচ্ছায় কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সে সময় নতুন অনেক তরুণ নতুন করে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তাঁর বাবার জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৭ ডিসেম্বর তাঁর বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।
ওই সময়ে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে দাবি করেন আসিফ। বিশেষ করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার যে অভিযোগটি উঠেছিল, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেন তিনি। আসিফের ভাষ্যমতে, ১৯৭৪ সালে তাঁর বাবা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই সমস্ত অভিযোগ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করে কারাগার থেকে মুক্তি পান। দালাল আইনের অধীনেও তাঁকে কখনো গ্রেপ্তার বা কোনো সাজা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।