প্রবাসীদের জন্য বাউবির এসএসসি প্রোগ্রামে ভর্তি শুরু, আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এসএসসি প্রোগ্রামে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
শিক্ষাঙ্গন: ১৯ বছর পর এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে দেখা মিলল ভিন্ন চিত্র। দুর্বল ভিত্তি, ইংরেজি ও গণিতে ব্যাপক হারে ফেল করায় ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। যার ফলে দীর্ঘ ১৯ বছরের মধ্যে এ বছরই সর্বনিম্ন পাসের হারের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর গড় পাসের হার মাত্র ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর চেয়ে কম পাসের হার ছিল ২০০৭ সালে, যা ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। চলতি বছর মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ, ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭ জন, যা গতবারের চেয়ে ২২ হাজার ৩৫৬ জন কম।
ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার যথাক্রমে ৮০ দশমিক ৬৪ এবং ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ হলেও মানবিকে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিকের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। তবে এবারের বড় চমক দেখিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়, যেখানে প্রায় সব বোর্ডেই পাসের হার ৯৮ শতাংশের ওপরে। এছাড়া পদার্থ, রসায়ন ও উচ্চতর গণিতেও শিক্ষার্থীদের ফলাফল বেশ সন্তোষজনক।
জিপিএ-৫ ও পাসের হারের দিক থেকে গত আট বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ছেলেরা পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ১১৬ জন ছাত্রী বেশি পেয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
এ বছর উদ্বেগজনকভাবে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যা গত বছর ছিল ১৩৪টি। এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু মাদ্রাসা বোর্ডেই ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬৯টিতে।
১১টি বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড (৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ) এবং সাধারণ ৯ বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড (৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ)। এছাড়া জিপিএ-৫ পাওয়ার হারের দিক থেকে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষাবিদ ও বোর্ড চেয়ারম্যানদের মতে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার বাইরে অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যয় করায় এবং কঠিন বিষয়গুলোতে পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়ায় এমন ধস নেমেছে। তবে এই ব্যাপক পাসের হার কমে যাওয়ায় আসন্ন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।