নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ধীরে চলো নীতি ঢাকার, ভারতের একাধিক চিঠির পরও আগ্রহ কম
ভারতের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করছে ঢাকা। পূর্ণ প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক সূচি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা।
ঢাকা: কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে এক যুগান্তকারী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে এখন থেকে কারাবন্দিরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। ইতিমধ্যেই মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা সারা দেশের কারাগারে সম্প্রসারণ করা হবে।
ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল গণমাধ্যমকে জানান, বন্দিদের গোপনীয়তা বজায় রেখে সারা দেশেই এই ভিডিও কল সেবা চালু করা হচ্ছে।
শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বন্দিদের মানসিক উন্নয়ন ও দক্ষ করে তুলতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং বিভিন্ন উৎপাদনশীল প্রশিক্ষণ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য পোশাক ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা জেলে রুটি তৈরির প্রক্রিয়া আধুনিক করতে চীন থেকে আমদানি করা আধুনিক রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে কম সময়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে।
বন্দিদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সকে পদায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসায় কারা সদর দপ্তরে প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য কাশিমপুর কারাগারে মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
মাদক দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার আধুনিক মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও খুলনা কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।
কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক প্রত্যাশা পূরণে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অসামান্য অবদানের জন্য পদক ও প্রশংসাপত্র দিয়ে কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব বহুমুখী সংস্কারের মাধ্যমে কারাগারকে কেবল শাস্তিমূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি প্রকৃত ‘সংশোধনকেন্দ্র’ ও মানবিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার কাজ নিরলসভাবে চলছে।