আন্তর্জাতিক ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য কোনো সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নিলে তেহরান দেশটিকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিশিষ্ট ইরানি শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মারানদি। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের ওপর তেহরান বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
লেবাননভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মারানদি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নির্বিঘ্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত হলে ওই অঞ্চলে দেশটির সম্পদ ও স্থাপনা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্যবস্তু শুধু সামরিক স্থাপনাই হবে না, বরং সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাও ইরানের নিশানায় পড়তে পারে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার অজুহাতে মার্কিন চাপে দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে নিজেদের নৌবাহিনী বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন খবর প্রকাশ পাওয়ার পরই এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামরিক সহায়তার বিষয়ে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, যুদ্ধবহির্ভূত ভূমিকা কিংবা অনুসন্ধান অভিযানের মতো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং যেকোনো সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, মন্ত্রিসভা ও জাতীয় পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও সিউলের ওপর এ বিষয়ে জোরালো কূটনৈতিক চাপ রয়েছে। এর আগে ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে সিউলের প্রাথমিক অস্বীকৃতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশও দিয়েছিলেন।
নিজেদের জ্বালানি আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল দক্ষিণ কোরিয়া। গত বছর দেশটির মোট আমদান অপরিশোধিত তেলের ৬১ শতাংশ এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত ন্যাফথার ৫৪ শতাংশই এসেছিল এই প্রণালি দিয়ে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘নিছক বোকামি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মোহাম্মদ মারানদি। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনকে সহায়তা করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা বা প্রভাব দক্ষিণ কোরিয়ার ওই অঞ্চলে নেই। মার্কিন চাপে পড়ে সিউল এই সংঘাতে জড়ালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।