শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নয়, ১৬ ডিসেম্বরে চালু হবে থার্ড টার্মিনাল
অহেতুক নাম পরিবর্তন না করে ১৬ ডিসেম্বরে থার্ড টার্মিনাল আংশিক চালুর ঘোষণা বিমান পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের। পরিচালনায় চুক্তি জাপানের সঙ্গে।
ঢাকা: ছবি ছাড়া কেবল বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে জারি করা রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কোনো সুযোগ থাকছে না।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। রায় ঘোষণার পর ইসি আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত রুলটি খারিজ করায় ছবি ছাড়া এনআইডি দেওয়ার সুযোগ আর রইল না।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা করেন—এমন দাবি জানিয়ে রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিটের পক্ষে তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে অথরিটি দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন সুমাইয়া আহমাদ মুনা। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি একজন পর্দানশীন মুসলিম নারী এবং শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। ছবি না থাকায় তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এই যুক্তিতে ছবি ছাড়া বিকল্প পদ্ধতিতে এনআইডি পাওয়ার আবেদন জানান তিনি। ইসি ওই আবেদন নিষ্পত্তি না করায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
পরে ওই বছরের ৬ মার্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প উপায়ে বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে এনআইডি তৈরিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ আদালত রুলটি খারিজ করে দেন। এর ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র চালুর দাবিটি আইনিভাবে নাকচ হয়ে গেল।
মামলার শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। যুক্তি দেওয়া হয় যে, ব্যাংক হিসাব খোলা কিংবা হজ পালনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ছবি ও পরিচয় যাচাই অত্যন্ত জরুরি। ছবি ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করতে গেলে জালিয়াতি বা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। সব দিক বিবেচনা করে আদালত রিট আবেদনটি খারিজের রায় দেন।