সমাজতন্ত্রের পরীক্ষা ও চীনের পথচ্যুতি: অ্যান্ড্রু ওয়াল্ডারের আলোতে মাও-যুগ
গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড থেকে সাংস্কৃতিক বিপ্লব—অ্যান্ড্রু ওয়াল্ডারের ‘China Under Mao’ বইয়ের আলোকে মাও সে-তুংয়ের শাসনের সাফল্য ও বিপর্যয়ের বিশ্লেষণ।
আন্তর্জাতিক: নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহ ধসের ঠিক আগে ওই অঞ্চলে বছরের এই সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। একজন বিশিষ্ট গবেষকের আবহাওয়া-সংক্রান্ত বিশদ বিশ্লেষণে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পাহাড়ি হিমবাহ এলাকায় গত ২১ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় এই তাপমাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি। গত ৫৫ বছরেরও বেশি সময়ের আবহাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অতীতের যেকোনো বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে সেখানকার তাপমাত্রা কখনোই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়নি।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বার্কলি আর্থ’-এর প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে এই তাপমাত্রার তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ওই স্থানে আগস্টের শেষ সপ্তাহে ২১ থেকে ২৬ তারিখের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। তাঁর মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত উষ্ণতা না থাকলে এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা কয়েক হাজার বছরে মাত্র একবার ঘটার মতো বিরল একটি বিষয় হতো।
এদিকে ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ সংস্থার ১৯৭০ সাল থেকে সংরক্ষিত উপাত্ত বলছে, হিমবাহ ধসের সময় লাংটাং অঞ্চলে ওই বছরের গ্রীষ্মকাল ছিল তাদের রেকর্ড ইতিহাসে চতুর্থ উষ্ণতম।
অতিরিক্ত গরমের কারণে এই দুর্যোগ ঘটেছিল কি না—তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফরাসি জলবায়ুবিদ ভ্যালেরি ম্যাসোঁ-দেলমোত জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে পাহাড়ের জমাট বাঁধা মাটি বা ‘পারমাফ্রস্ট’ গলে যেতে পারে। এই পারমাফ্রস্ট মূলত বরফের সিমেন্টের মতো কাজ করে, যা পাহাড়ের পাথর ও ঢালকে শক্ত করে আটকে রাখে। এটি গলে গেলে পাহাড়ের ঢাল মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
দুর্যোগের মাত্র কয়েক দিন আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরফ গলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে স্যাটেলাইট। ফ্রান্সের সিএনআরএসের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এতিয়েন বের্তিয়েরের মতে, অতিরিক্ত বরফ গলার ফলে সৃষ্ট পানি পাহাড়ের ফাটলে ঢুকে ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে তাপমাত্রা বাড়ার ঘটনাকেই একমাত্র কারণ হিসেবে মানতে নারাজ কিছু গবেষক। গ্রেনোবল আল্পস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রূপ বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেন কুকের মতে, শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেই পাহাড় ধসে পড়ে—বিষয়টি এতটা সরল নয়। তাঁর ধারণা, তাপমাত্রা যদি ধসের ট্রিগার বা অনুঘটক হয়েও থাকে, তবে বুঝতে হবে পাহাড়টি আগে থেকেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল।
বর্তমানে গবেষকেরা হিমবাহ ধসের আগের বছরগুলোতে পাহাড়ে তৈরি হওয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নড়াচড়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যকার সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। বিজ্ঞানী রবার্ট রোডের মতে, গলা বরফের পানি বা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের ফাটল এলাকার পাথরগুলো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল—এমন জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।