ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে নিজের দেওয়া অতীতের একটি মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি স্বীকার করেছেন যে, পাটওয়ারীর ‘নোংরা ভাষার’ জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া তাঁর ঠিক হয়নি।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এই অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর পরিবার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে অত্যন্ত তীর্যক, অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপটেই তিনি কয়েক মাস আগে অসাবধানতাবশত একটি উদাহরণমূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ন্যূনতম পরিশীলিত রাজনীতি করলে, হয়তো কখনোই আমার এমন উদাহরণ দেওয়া লাগতো না।” পাটওয়ারী তাঁকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলায় বিষয়টি ব্যক্তিগত সংক্ষুব্ধতা ও তিক্ততায় রূপ নিয়েছিল বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে আর একে অপরের বিরুদ্ধে কথা না বলার জন্য পাটওয়ারী তাঁকে ফোন করেছিলেন দাবি করে রাশেদ খান বলেন, “কিন্তু সে ৫-৬ ঘণ্টা পর তার কমিটমেন্ট ব্রেক করে।” এছাড়া সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যোগ্যতা নিয়ে পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যও সবার নজরে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনার মুখে নিজের ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে আত্মালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, তাঁর ওই প্রতিক্রিয়াটি ‘টিট ফর ট্যাট’ বা বদলার মতো হলেও এমন ভাষা ব্যবহার করা তাঁর উচিত হয়নি। দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীও এমনটাই মনে করেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “২০২৪-পরবর্তী রাজনীতির গতিপথে আমরা চেয়েছি দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা আর বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে। আর এ কারণে আমার জায়গা থেকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুল হয়েছে, তা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে নিজেকে শুধরিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।” রাজনৈতিক পরিসরে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সহনশীলতা ও পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রার কথা স্মরণ করে রাশেদ খান বলেন, তিনি সবসময় সহনশীল থাকার এবং ভাষার ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছেন এবং এই সতর্কতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ঘৃণা ছড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে কেউ লাভবান হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেবল বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যে বসে থাকা অপশক্তিই উপকৃত হয়।