ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারে কমল দাম
ডলারের দরপতনের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বাড়লেও দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ১ হাজার ১০৮ টাকা কমানো হয়েছে।
ঢাকা: দেশে ‘এক দেশ, এক কিউআর’ (Bangla QR) ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই ডিজিটাল লেনদেনে অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় একটি অভিন্ন কিউআর কোডের আওতায় আসার পর থেকে শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই প্রযুক্তির সুফল পাচ্ছেন। বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে এবং সাপ্তাহিক লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনের সংখ্যা ও আর্থিক মূল্য—উভয় ক্ষেত্রেই বিপ্লব ঘটেছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব পৃথক কিউআর কোড বাদ দিয়ে বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। কিন্তু আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে এবং একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়ে প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। বর্তমানে এই দৈনিক লেনদেন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ২১ জুলাই পর্যন্ত বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী নিবন্ধিত ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে বেড়ে ৩০ লাখের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
একটিমাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকায় গ্রাহকদের পুরোনো ভোগান্তি দূর হয়েছে। রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আজিমপুরের বাসিন্দা তুহিন ইসলাম জানান, আগে দোকানির নির্দিষ্ট কোনো সেবা সংস্থার কিউআর কোড না থাকলে তাকে বিপাকে পড়তে হতো। কিন্তু এখন যেকোনো অ্যাকাউন্ট থেকেই পেমেন্ট করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলেছে।
রাজধানীতে পাইকারি কাপড় কিনতে আসা মাহিন হোসেন ও মতিঝিলের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রায়হানুল ইসলাম জানান, নগদ টাকা বহন ও লেনদেনের ঝুঁকি থেকে তারা এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। আজিমপুরের ফলের জুস বিক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, “দোকানে সারাদিন ভিড় থাকে, খুচরা টাকার সংকটেও পড়তে হতো না। এখন বাংলা কিউআরের কারণে খুব সহজেই খুচরা ঝামেলা ছাড়াই লেনদেন করতে পারছি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, লেনদেনের এই ইতিবাচক গতি তারা অব্যাহত রাখতে চান। ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) নিয়ে যে দ্বিধা বা শঙ্কা ছিল, তা দূর করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নগদবিহীন লেনদেন বাড়লে বিক্রির পরিমাণও বাড়বে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয় নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রণোদনা সংক্রান্ত ঘোষণার পর থেকেই লেনদেনের গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেন সহজলভ্য করা, নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য পেমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করার যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলা কিউআর চালু হয়েছিল, তা এখন দেশের দৈনন্দিন কেনাবেচার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরতার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।