বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ার রূপরেখা ও নীতিগত তাগিদ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের হাব হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।
‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’—কৈশোর থেকে পাঠ্যপুস্তকে পড়া এই পরম সত্য বাণীটি আজ গভীর এক প্রশ্নের মুখোমুখি। একটি দেশের ভৱিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, নেতৃত্ব ও নৈতিক কাঠামোর মূল ভিত প্রোথিত থাকে তার শিক্ষাঙ্গনে।
কিন্তু সেই শিক্ষাব্যবস্থারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের মূল্যায়নে যদি ভয়াবহ অনিয়ম, অবহেলা ও ভুলের পরভীতি দেখা দেয়, তবে জাতির মেরুদণ্ডেই ক্ষয় ধরেছে বলে ধরে নিতে হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের চিত্র দেশের শিক্ষা বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতাকে গুরুতরভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণে সাড়ে চার হাজারের বেশি ফেল করা শিক্ষার্থীর পাস করা এবং তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়া কোনো সাধারণ মানবীয় ভুল নয়; বরং এটি পুরো মূল্যায়ন ব্যবস্থার এক প্রাতিষ্ঠানিক গোলযোগের প্রমাণ।
মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, আর সেই কারণেই আইনি ও নীতিগতভাবে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়। তবে পুনর্নিরীক্ষণ যখন নিয়মিত ও গণহারে ফল পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রাথমিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়।
পুনর্নিরীক্ষণে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তিত হওয়া এবং ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড বদলে যাওয়া স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, প্রথম দফায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের চরম উদাসীনতা ও জবাবদিহিতার মারাত্মক অভাব ছিল।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে খাতার মূল নম্বরের সাথে প্রকাশিত ফলাফলের অসঙ্গতি (যেমন শূন্য পাওয়া খাতায় ৪৫ নম্বর দেখানো) এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষকদের ডেকে নম্বর বাড়ানোর জন্য চাপের অভিযোগ গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
১০ বছরের দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধ্যবসায় শেষে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফলাফলের মুখোমুখি হয়। একটি ভুল নম্বর বা অকৃতকার্যতার কারণে কেবল একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভাবনাময় এক একটি শিক্ষার্থীর মানসিক ভারসাম্য ভেঙে দেয় বা করুণ মৃত্যুর মতো ট্র্যাজেডি ডেকে আনে।
উন্নত বিশ্বের মতো পরীক্ষকদের সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, নমুনা উত্তরপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়ন মানদণ্ড নির্ধারণ, দ্বৈত নিরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির সাহায্যে অস্বাভাবিক নম্বর শনাক্তকরণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
যেসব পরীক্ষক চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বা ইচ্ছাকৃত ভুল করেছেন, তাদের কেবল খাতা মূল্যায়ন থেকে বহিষ্কার নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কার ও সর্বাত্মক স্বচ্ছতা আনা ব্যতিরেকে কোনো বিকল্প নেই। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে কোনো শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু যেন শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়।
একটি নম্বর বা একটি ভুলের কারণে যেন আর কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস না হয়; সে জন্য পরীক্ষকদের কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল নিরীক্ষা এবং অপরাধী পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।