জয়ন্তী নদী সেতু শরীয়তপুর বরিশাল এলজিইডি
শরীয়তপুর ও বরিশালের সংযোগস্থল জয়ন্তী নদীতে সেতু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে লাখো মানুষ। ১,৩৯২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলা শহরে দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) সমর্থিত বিএনপির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার পর জেলা শহরের ডোকরোপাড়া-মির্জা রুহুল আমিন (এমআর) কলেজ মোড় এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার কারণে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ ও বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্য উত্তেজনা দেখা দেয়।
ওই দিনের ঘটনার জের ধরে রাতে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সমর্থকেরা ডোকরোপাড়া-এমআর কলেজ মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা একটি মিছিল নিয়ে মিঠাপুকুর-তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের দিকে যাওয়ার পথে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বাধে।
স্থান ডোকরোপাড়া-এমআর কলেজ মোড়, পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়ক
পক্ষদ্বয় পঞ্চগড়-১ এমপি নওশাদ জমির সমর্থক VS পঞ্চগড়-২ এমপি ফরহাদ হোসেন Azad সমর্থক
মোট আহত অন্তত ১৫ জন (২ জন পথচারীসহ)
আশঙ্কাজনক স্থানান্তর ৫ জন (রংপুর মেডিকেল ও ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে)
সংঘর্ষের ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণ নিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আহতদের। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, আহতদের অনেকের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
আহত পথচারী: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি সাফাত কবির (২১) ও পঞ্চগড় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জীবন রায় (২২)।
আহত নেতাকর্মী: জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আবদুল বাতেন (৪৫), শামীম ইসলাম (২৮), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)।
আহতদের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আবদুল বাতেন, শামীম ইসলাম, সাক্ষর ও ময়নুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান অভিযোগ করেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মানিকের নেতৃত্বে তাদের ওপর অহেতুক হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে মনিরুজ্জামান মানিক পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা রোধে তাদের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হওয়ার সময় পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামীম ইসলামকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। এরপর লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম “দুই এমপির সমর্থকদের এ ঘটনা দুই এমপিই সামলাবেন। আহ্বায়ক হিসেবে আমিও সমাধানের উদ্যোগ নেব।”
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ “পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ঘটনার পেছনে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করা হচ্ছে।”